২০০ রানে হেরে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ
১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ২০০ রান ব্যবধানে হেরে হোয়াইটওয়াশ হল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্ট লন্ডনের বাফেলো স্টেডিয়ামে টস জিতে ৩৭০ রানের টার্গেট দেয় প্রোটিয়ারা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০.৪ ওভারে মাত্র ১৬৯ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
এর আগে, ১৫ অক্টোবর প্রথম ওয়ানডেতে ১০ উইকেটেে এবং ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০৪ রানে হারে বাংলাদেশ। আর শেষ ম্যাচে আজ রোববার ২০০ রানে হেরে প্রোটিয়াদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হল বাংলাদেশ।
সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই মাত্র ১ রানে আউট হয়ে ফেরেন ইমরুল কায়েস। পেটারসনের বলে বেহার্ডেইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল কায়েস। এরপর ক্রিজে যোগ দেন লিটন দাস। তবে দলীয় ১৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৬ রানে পেটারসনের এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি।
লিটন দাস ফেরার পর সৌম্যর সঙ্গে যোগ দেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দলের ২০ রানের মাথায় নিজের মাত্র ৮ রানে রাবাদার শিকার হন সৌম্য। এরপর মুশফিকের সঙ্গে ক্রিজে আসেন সাকিব আল হাসান।
সাকিবকে ক্রিজে রেখেই সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। দলীয় ৫১ রান এবং নিজের ৮ রানের মাথায় পেহলুকওয়ের বলে রাবাদার হাতে ধরা পড়েন তিনি।
এরপর সাকিবকে সঙ্গ দিতে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনিও সাকিবকে ফেলেই বিদায় হন। দলীয় ৬১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২ রানে মুলডারের এলবিডাব্লিউয়ের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। মাত্র ৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিশাল চাপে বাংলাদেশ।
মাহমুদউল্লাহ ফেরার পর সাকিবের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাব্বির রহমান। দলীয় সংগ্রহে ৬৩ রান যোগ করার পরই মারক্রামের শিকারে পরিণত হন সাকিব।
সাকিব ফেরার পর সাব্বিরের সঙ্গে যোগ দেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু দলের ১৩৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩৯ রানে আউট হয়ে ফেরেন সাব্বির। মারক্রামের বলে ডি ককের হতে ধরা পড়েন সাব্বির।
এরপর ক্রিজে যোগ দেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে মিরজকে ফেলেই মাত্র ১৭ রানের মাথায় আউট হন টাইগার অধিনায়ক।
মাশরাফি আ্উট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন তাসকিন আহমেদ। তবে নিজের ২ রানের মাথায়ই ইমরান তাহিরের বলে ডুমিনির হাতে ধরা পড়েন তাসকিন।
এরপর ক্রিজে আসেন পেসার রুবেল হোসেন। তবে তিনি দলীয় সংগ্রহে কোনো রান যোগ করতে পারেননি। কারণ দলীয় ১৬৯ রানের মাথায় টাইগারদের দশম উইকেটের পতন ঘটে। নিজের ১৫ রানের মাথায় ইমরান তাহিরের বলে ডি ভিলিয়ার্সের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
এর আগে, আজ শনিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার তেম্বা বাভুমা ও ডি কক। তারা দুই জন শক্ত দেয়াল গড়ে বিশাল রানের দিকে এগিয়া যাচ্ছিলেন। তাদের সেই দেয়ালে প্রথম আঘাত হানলেন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ।
মিরাজের প্রথম শিকার হয়ে ফেরেন তেম্বা বাভুমা। ব্যক্তিগত ৪৮ রানের মাথায় লিটন দাসের গ্লাবসবন্দি হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ক্রিজে যোগ দেন অধিনায় ডু প্লেসিস। তবে ডু প্লেসিস ক্রিজে যোগ দেওয়ার পরপরই প্রোটিয়া শিবিরে আবারও আঘাত করেন মিরাজ।
মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন আরেক ওপেনার ডি কক। ব্যক্তিগত ৭৩ রান এবং দলীয় ১৩২ রানের মাথায় মিরাজের বলেই তার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ডু প্লেসিসকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে এসেছেন এইডেন মারক্রাম। তবে রান নিতে গিয়ে চোট পেয়ে ব্যক্তিগত ৯১ রানে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় প্রোটিয়া অধিনায়ককে।
এরপর মারক্রামের সঙ্গে যোগদেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিন্ত ভিলিয়ার্সের সঙ্গে ক্রিজে বেশি ক্ষণ থাকতে পারেননি মারক্রাম। দলের ২৮৯ রান এবং ব্যক্তিগত ৬৬ রানে ইমরুল কায়েসের শিকার হন মারক্রাম।
মারক্রাম ফেরার পর ভিলিয়ার্সের সঙ্গ ক্রিজে যোগ দেন ফারহান বেহারডেইন। তবে ব্যক্তিগত ২০ রানের মাথায় রুবেল হোসেনের বলে মাশরাফির হাতে ধরা পড়েন ভিলিয়াস। এরপর ক্রিজে যোগ দেন উইলেম মুলডার।
দলীয় ২২৯ রান এবং ব্যক্তিগত মাত্র ২ রানের মাথায় তাসকিনের শিকার হন মুলডার। এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ফেরেন তিনি। এরপর বেহারডেইনের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন পেহলুকওয়ে। তবে মাত্র ৫ রানেই তাকে ফেরান তাসকিন আহমেদ।
তারপর ক্রিজে যোগ দেন কাগিসো রাবাদা। দলীয় সংগ্রহে রাবাদা ২৩ রান এবং বেহারডেইন ৩৩ রান যোগ করেন। তাদের দুই জনের রানসহ দলীয় সংগ্রহ ৩৬৯ হওয়ার পরই নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষ হয়ে যায়।

