জেনে নিন কতদিন বাঁচবেন
নিউজ ডেস্ক | ৩:০০ অপরাহ্ন, ৪ নভেম্বর, ২০১৭

দীর্ঘায়ু পাওয়ার পাঁচ রহস্য জানিয়ে গিয়েছেন জাপানের চিকিৎসক শিগেয়াকি হিনোহারা।
কল্পনার দুনিয়াতে অমরত্ব লাভ করা কঠিন নয়। কিন্তু বাস্তবের পৃথিবীতে অমরত্ব এখনও অধরা। সময় এলে সকলকেই চলে যেতে হয়। কিন্তু এই সময়টা কখন আসে?
নিশ্চয়ই ভাবছেন, মৃত্যু তো আর খবর দিয়ে আসে না, তাই আগাম জানার কোনও উপায় নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেন্ডেন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, নিজেদের আয়ু নির্ধারণ করা আমাদের হাতে না থাকলেও কতদিন বাঁচব, তার অনেকটাই আমাদের উপর নির্ভর করে। ভাবছেন, কী ভাবে? প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মধ্যেই লুকিয়ে আয়ু বাড়ানোর চাবিকাঠি।
এ বিষয়ে পাঁচটি রহস্য জানিয়েছেন জাপানের চিকিৎসক শিগেয়াকি হিনোহারা। চলতি বছরের জুলাই মাসেই মারা যান এই জাপানি চিকিৎসক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর।
শিগেয়াকি জানান—
১। ওজনের দিকে সবসময়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কারণ স্বাস্থ্যই সম্পদ। ডিনারে মাছ ও সবজির উপরেই বেশি জোর দিয়েছেন জাপানি চিকিৎসক। মাংস অবশ্যই খেতে হবে। তবে সপ্তাহে দু’বারের বেশি নয়। জলপাইয়ের তেল (অলিভ অয়েল) খাওয়ার উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। শরীরের ত্বক ও শিরা-ধমনি ভালো রাখার জন্য জলপাই তেল ভাল কাজ করে।
২। যেটুকু বাঁচা যায়, আনন্দের সঙ্গে বাঁচার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত নিয়মকানুনের চাপে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শৈশবে খাবারদাবারের অনিয়ম সত্ত্বেও শরীর অসুস্থ হয় না। কেন? কারণ, মানসিক চাপ থাকে না।
৩। যা জানো, তা অন্যকে জানাও। শিগেয়াকি বিশ্বাস করতেন, আমরা পৃথিবীতে এসেছি এই সভ্যতায় কিছু না কিছু অবদান রাখার জন্য, মানুষকে সাহায্য করার জন্য। আজ, আগামীকাল, এমনকি পাঁচ বছর পরের পরিকল্পনা করতেন তিনি। এটা ভাল থাকতে সাহায্য করে।
৪। যত দেরিতে সম্ভব, কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিগেয়াকি। জাপানি এই চিকিৎসক নিজে মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও কর্মজীবনে সক্রিয় ছিলেন। সাধারণত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অবসর নেওয়ার পর যেন তাঁদের বার্ধক্য হু হু করে বাড়ে। দেখা দিতে থাকে নানা অসুখ-বিসুখ। কাজ মানুষের বার্ধক্য আটকে রাখে এ কথা মানতেন জাপানি চিকিৎসক।
৫। বৃদ্ধ বয়সেও হাঁটাচলা বা সিঁড়ি ব্যবহার করার পক্ষপাতী ছিলেন শিগেয়াকি। এর ফলে কোনও কৃত্রিম পদ্ধতি ছাড়াই শরীরের পেশি ঠিক রাখা যায় বলে জানিয়েছেন তিনি। ডাক্তারের পরামর্শকে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করতে মানা করতেন তিনি। চিকিৎসকেরা জীবন দিতে পারেন না। তাই অযথা সার্জারি করার বিপক্ষে ছিলেন।
সূত্র: নতুনসময়.কম

