প্রশ্নপত্র ফাঁস ও গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা
মোহাম্মদ আবুল হাসনাত (লালন) | ৯:২১ পূর্বাহ্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

মোহাম্মদ আবুল হাসনাত (লালন)
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া চালুর প্রচেষ্ঠা নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। সম্ভবত এ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভব্য কারণগুলোর অন্যতম কারণ হলো ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সময় ও অর্থের অপচয় রোধ এবং পেরেশানী কমানো।
অনেক ঝুট-ঝামেলার মধ্যেও আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো মেধাবী ছেলে-মেয়েরাই ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে যাদের অধিকাংশই আবার গ্রামের সাধারণ, অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী সন্তান। কিন্তু শংকার কারণ হলো, বর্তমানে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে যতগুলো পাবলিক পরীক্ষা হচ্ছে প্রায় সবগুলোরই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক সবাই মিলে প্রশ্নপত্রের পিছনে ছুটছে।
একদল শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র পেয়ে পরীক্ষায় ভাল ফল করে মহাখুশি আর প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ মহাআশংকায় পড়ে যাচ্ছেন। স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্রই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ও মাননীয় শিক্ষামন্রী ব্যর্থতার দ্বায় স্বীকার করে পদত্যাগের ইচ্ছাপোষণ করেছেন বলে খবরে প্রকাশ।
স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে, ডিজিটালাইজেশনের এ যুগে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে, তাদের টিকিটি-ই ধরতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় গুচ্ছ পদ্ধতিতে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ, বিতরণ ও পরীক্ষার সামগ্রিক কার্য্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন নিঃসন্দেহে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিকমিটি গঠনের মাধ্যমে করতে হবে যার ব্যাপকতা বর্তমান ভর্তি পদ্ধতি থেকে অনেক বেশী হবে। এ ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশংকা অনেকাংশেই বেড়ে যাবে।
যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াটা আমরা স্বচ্ছ রাখতে না পারি তবে মেধাবীদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার হার কমে যাবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অসৎ ও কমমেধাবীদের পদচারণা বেড়ে যাবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু রাষ্ট্রের হৃদযন্ত্র ও শিক্ষার্থীরা রক্ত, সেহেতু দূষিত রক্ত দেশজুড়ে প্রবাহিত হলে রাষ্ট্র মুমূর্ষু অবস্থায় পৌছতে বাধ্য হবে।
যদি গুচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস ব্যতিরেকে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার সামর্থ্য আমাদের না থাকে, সামর্থ্যবান হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষার সমসাময়িক অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমই গুচ্ছ পদ্ধতিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে শংকিত হওয়ার মূল কারণ। তাই আমরা এখনই গুচ্ছ পদ্ধতিতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালুর করার মাধ্যমে মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পথ বন্ধ করতে চলছি কি না তা ভেবে দেখা দরকার।
লেখক: শিক্ষক, বায়োকেমিষ্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।


1 Comments