এমপি তৌফিকের নিকট আবেদন: ইজারামুক্ত জলমহাল চাই
আহমেদ রুবেল প্রধানের খোলা চিঠি
আহমেদ রুবেল প্রধান | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

আহমেদ রুবেল প্রধান
বরাবর,
মাননীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক মহোদয় কিশোরগঞ্জ -০৪
বিষয়ঃ হাওরের খাল বিল, নদী ইজারামুক্ত প্রসঙ্গে।
হাওর বা ভাটি কথাটি উচ্চারণ হতেই উচ্চারণ হয় ভাটির শার্দূলের কথা। মনে পরে সেই আব্দুল হামিদ মহোদয়ের এমপি থাকাকালীন সময়ের কথা।
মনে পড়ে যায় বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনার জন্মদাতা মাদুরে আসন পেতে আমার মায়ের হাতের খাবার খেয়ে রান্নার প্রশংসা করতো আর বলতো, “চিতল মাছটা কোন বিলের এত মাছতো খাওন যায়তোনা একটা বাডিত ভইরা রাহ যাওনের সময় দিয়া দিও।”
আমি আহমেদ রুবেল প্রধান, পিতা: মোসলেহ উদ্দিন প্রধান, গ্রাম বৈরাটি হাজিবাড়ী, মিটামইন, কিশোরগঞ্জ। দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ হাওর পাড়ের জেলেদের কিছু কষ্টের গল্প আপনাকে শুনাতে হাজির হয়েছি। আমাদের ভাটির নারিচার ধন আজ বঙ্গভবনে, যা ভাবতেই চোখ বেয়ে নামে আনন্দের অশ্রæ। আপনি হলেন সে গর্বিত পিতার সন্তান। আপনার কাছে হাওরবাসির আকুল আবেদন আমাদের হাওরপাড়ের জেলেদেরকে ইজারাদারদের অত্যাচার করা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিন।
ইজারাদারীর নাম করে হাওরের জেলেদেরকে আর যেন নিপীড়িত হতে না হয় সেজন্য ইজারামুক্ত জলমহল করার ব্যবস্থা করে দিবেন। হাওরবাসির পক্ষে এটা আমার অনুরোধ, আমার প্রাণের দাবি।
আপনার বাবা মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের শূন্যতা পূরণ করতে আপনি এসেছেন আমাদের মাঝে, আমরা ভাটির মানুষও আপনার মাঝেই দেখতে শুরু করেছি আপনার পিতার মুখ।
ভাটির প্রধান সৌন্দর্য হলো কৃষক, জেলে। এক বছরে ১২ মাস। সেখানে ৬ মাস কৃষকের রাজত্ব আর ৬ মাস হলো জেলেদের রাজত্ব। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস প্রতি বছরই কোননা কোন কারণে কৃষক হারাচ্ছে তার মূলধন পথে বসেছেন আমার দেশের হাজার হাজার কৃষক। যা আপনার চেয়ে আর কেউ ভাল জানে না।
আর জেলে সেতো এক কপাল পোড়া যার ভাগ্য আর রিজিক দুইটার মালিকানা বোধহয় প্রত্যেক এলাকার কিছু ইজারাদার রক্ত পিশাচ রাঘব বোয়ালদের হাতেই দেয়া হয়েছে।
আপনার পিতার আমলে মাছ খেয়ে থলে ভরে নিয়ে গেছে আপনার মায়ের জন্য। আর আপনার আমলে ভাবি সাহেবার জন্য থলে ভরে দিয়ে দেওয়াতো দূরের কথা আপনাকেই কোন রকমে ধারদেনা করে খাওয়াতে হয়।
উল্লেখ্য, এই যে আপনার বাবাকে খেতে দিতাম কাফ (বড় গর্ত কাফে ) প্লেটে আর আপনাকে দিতে হয় ফ্লাট প্লেটে। আমাদের লজ্জা হয় তবু আধুনিকতার দোহাই দিয়ে লজ্জা পাওয়া থেকে কোন রকমে বেঁচে যাই।
আপনাকে একবেলা মাছ খাওয়াতে যদি আমাদের আধুনিক কায়দায় সৌন্দর্য কিংবা বাহারী ফ্লাটপ্লেট ব্যবহার করতে হয় সেখানে আপনার বিবেকের আদালতে বিচার দিলাম আমরা কোথায় পাব মাছের ঝোল?
মাননীয় এমপি মহোদয় আপনি হয়তো জানেন গত পাঁচ মাস আগে আপনি যখন আমাদের বৈরাটি বাজারে গিয়েছিলেন, আমার উদীয়মান বৈরাটি ইউনিয়ন গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ করতে, সেদিনও বাড়ির নিচে মাছ ধরতে গেলে এক জেলেকে মারধর করে বল্লম ও রামদা দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়।
তারপর তার স্বজনরা আমার কাছে মাথাফাটা অজ্ঞান অবস্থায় নিয়ে আসে আমি তাকে চিকিৎসা করিয়ে শ্বান্তনা পুরস্কার দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিই। এমন ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে। জলের জায়গায় জল পড়ে রয়। মাছগুলো সব কই?
মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে আমাদের হাওরবাসির আকুল আবেদন হাওরের জেলে ও কৃষকদের রিজিক যেন কোন ইজারাদার না মারতে পারে সে জন্য ইজারামুক্ত খাল, বিল, নদী দানে আমাদের বাধিত করে নৌকায় পাল লাগিয়ে মাছ ধরার পাশাপাশি হাওরের সৌন্দর্য জেলেদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে শান্তিতে বসবাসের সুযোগ করে দিন।
অনুরোধক্রমে
হাওরবাসীর পক্ষে: আহমেদ রুবেল প্রধান, বৈরাটি হাজিবাড়ী, মিটামইন, কিশোরগঞ্জ।

