হেরে না যাওয়ার গল্প : একজন সামি ভাই
মোস্তাফিজুর রহমান লিংকন | ৩:২৩ অপরাহ্ন, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই সামি ( ছদ্ম নাম) ভাইকে চিনতাম। তিনি না আমার হলের,না ডিপার্টমেন্টের, এক এলাকারও না। এক্ষেত্রে সাধারনত ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে খুব কম। কিন্ত সামি ভাইয়ের সাথে আমার বড় ভাই, ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল মূলত লাইব্রেরিতে পড়ার সময়।
তিনি নিভৃতচারী মানুষ। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি ছাড়া আর কিছু ওনার চিন্তায় ছিল বলে কোনদিন শুনিনি। চারটা টিউশন, ফ্যামিলির চাপ, বেকারত্বের অভিশাপ,ছোট বোনের বিয়ের দায়িত্ব, এর পরে আর কিছু নিয়ে একটা মানুষের আগ্রহ থাকার কথা না, তারও ছিলনা।
বেকারত্বের দিনগুলোতে তার কাছাকাছি ছিলাম। তার জীবনের গল্প শুনে আমি বারবার থমকে গিয়েছি। কিন্ত সামি ভাই থামেন নি।
শাপলার মৌসুমে সামি ভাই স্কুলে যেত না। যেত না বললে ভুল হবে, যেতে পারত না। ভোরের আলো ফোটার আগেই যেতে হয়েছে শাপলা কুড়াতে, এর পর বাজারে বিক্রিকরে ফিরতে ফিরতে স্কুলের সময় শেষ। একবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসেছিলেন স্কুল পরিদর্শনে, নবম শ্রেণীর ক্লাসে জিজ্ঞেস করেছিলেন ফার্স্ট বয় কে? সবাই যখন চুপ,স্যার জিজ্ঞেস করলেন ও কই? ক্লাস মেটরা সবাই হেসে বলল স্যার সামি শাপলা তুলতে গেছে। কি জানি সেই কথা শুনেই সামি ভাই ম্যাজিস্ট্রেট হতে চেয়েছিলেন কিনা।
লাইব্রেরিতে পড়ার সময় একটু অবসর পেলে সামি ভাই হাকিম চত্ত্ব্ররের বড় গাছটার নিচে দাড়িয়ে বলত কখন ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে বাড়ি যাব,মানুষ বলবে অমুকের ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট হইছে,বলতে বলতে সামি ভাইয়ের চোখে সেই স্বপ্ন আমিও দেখতে পেতাম।
দুইদিন আগে সামি ভাই বাড়ি থেকে ফোন করেছিল, শাপলা কুড়ানো সেই সামিকে নিয়ে এখন ক্লাসম্যাটরা গর্ব করে, গর্ব করে পাড়ার লোকেরা। আংকেলের কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম, বলল বাবাতো আর এত কিছু বুঝেনা, শুধু জানে তার ছেলে এখন ম্যাজিস্ট্রেট।
গল্পটা বলে ফেললাম সামি ভাই,কারন এটা না বললে আমার ভাল লাগতো না। যদি মানুষের জন্য কিছু করেন তাহলে আগামি দিনের সামিরাও একদিন আমাদের পথ দেখাবে। ভালবাসা ভাই,বিশ্বাস করি আপনি হারবেন না, কারন সামিদের হারতে নেই।
লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া।

