সেলিব্রেটিরও সেলিব্রেটি আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি
মনোয়ার হোসেন পুলক | ১২:০২ অপরাহ্ন, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের সাথে লেখক
বাংলাদেশের মানুষ দলমত নির্বিশেষে যার নাম শুনলে শ্রদ্ধায় মাথানত করে তিনি আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব আবদুল হামিদ। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের বহু দেশে যত রাজনৈতিক অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন তাদের মধ্যে জনাব আবদুল হামিদ অনন্য। তিনি আপাদমস্তক একজন রাজনীতির মানুষ। যিনি নিজেকে কৃষকের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।
আমি বুঝতে শিখার পর উনাকে প্রথম কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয় অষ্টগ্রাম কোর্টবিল্ডিংয়ে সম্ভবত ১৯৯৮ সালে। বাবার সাথে গিয়েছিলাম।বাবার লেখা একটি বইয়ে ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার জনাব আবদুল হামিদ। ছোট্ট বয়সেই উনার অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব আমার মনে রেখাপাত করেছিল।
এরপর নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন উনার সানিধ্যলাভের সুযোগ হয়নি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন পুলকিত হয়েছি আবদুল হামিদের প্রতি দেশের নানা জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রদ্ধা দেখে। গর্বভরে পরিচয় দিয়েছি আমি উনার এলাকার সন্তান।
যে এলাকায় থাকতাম সেটি ভিন্নমতাবলম্বীদের ঘাঁটি হলেও আবদুল হামিদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা-ভক্তি ছিল অতীত বর্তমান সকল রাজনীতিকের জন্য ঈর্ষণীয় ও শিক্ষনীয় ব্যাপার। আমি আমার মেসে উনার জন্য অন্য জেলার ছেলেদের মারামারি করতে দেখেছি। একজন উনার ব্যাপারে হালকা আপত্তিকর মন্তব্য করায়। এই হলেন আমাদের ভাটির শার্দুল আবদুল হামিদ।
গত ইউপি নির্বাচনের পর মহামান্য অষ্টগ্রামের সকল চেয়ারম্যানকে বঙ্গভবনে নিমন্ত্রণ করেন। আমিও আমার স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রতিনিধিদলের একজন হয়ে অংশ নিই। সেখানে চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে মহামান্য যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তার প্রশংসা করার মতো ভাষা আমার জানা নেই।
আমরা অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ তথা দেশের মানুষ অনেক বক্তৃতা শুনেছি। বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনে উনার বক্তব্য নানা সময় টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনেও ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্ছাস দেখেছি।কিন্তু বঙ্গভবনে চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে তিনি যে বক্তৃতা করেন তার কোন তুলনা আমি খুঁজে পাইনি। আমার শুধু এটাই মনে হয়েছে আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি আবদুল হামিদকে তো দেখেছি!
এরপর আমাদের কলেজে তিনি এলেন আমাদের ২৫ বছর পূর্তিতে।যেখানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় উনাকে একবার পেতে হাপিত্যেশ করে মরে।
সর্বশেষ বিগত ১৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গেলাম আমাদের উপমহাদেশের রাজনৈতিক ব্র্যান্ড মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব আবদুল হামিদের পায়ের ধূলো নিতে। আবারও ঘোর বিস্ময় নিয়ে, ভালোলাগা নিয়ে যখন বের হয়ে আসছি তখন দর্শকনন্দিত প্রিয় অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের সাথে দেখা। বললাম একটা ছবি তুলবো ভাই। উনার তাড়াহুড়া! মহামান্যের সুযোগ্য উত্তরসূরি, আমার নেতা,মাননীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ভাইয়ের সাথে দেখা করবেন। আমি শেষে তুরুপের তাসটা বের করলাম। বললাম ভাই, আমি মহামান্যের এলাকার। বলতেই উনার সেকি উচ্ছাস!"বলে আপনি মহামান্যের এলাকার!? আসেন ভাই ছবি তুলি"! সত্যিই মহামান্য,আপনি সেলিব্রিটিদেরও সেলিব্রিটি। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।
লেখক: প্রভাষক, অষ্টগ্রাম রোটারী ডিগ্রী কলেজ, অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ।

