মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যুতে মামলা, উত্তাল ফেসবুক
বিশেষ প্রতিনিধি | ৪:২০ অপরাহ্ন, ২২ জুন, ২০১৮

নিহত শিশু ইফতেখার আলম খোকা
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মোল্ল্যা ভাটির রানিকে জানান, নিহতের মা শামীমা আক্তার বাদী হয়ে শুক্রবার (২২ জুন) একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৩। এতে আসামি করা হয়েছে অষ্টগ্রাম ভৌমিক পাড়ার মো. মান্নানের ছেলে মো. শোভনকে। শোভনের মোটর সাইকেলের ধাক্কায় শিশু ইফতেখার আলম খোকা নিহত হওয়ার অভিযোগ।
ওসি কামরুল ইসলাম মোল্ল্যা বলেন, “আসামিকে গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা চলছে। আশা করি খুব শীগ্রই আসামীকে ধরতে পারব এবং তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিও জব্দ করতে পারব।”
এদিকে ঘটনার বিচারের দাবিতে সরব হয়েছে সর্বস্থরের মানুষ। ছাত্র, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ ও সমাজকর্মীসহ নানা-শ্রেণি পেশার মানুষ ঘটনার বিচারের দাবিতে ফেসবুক উত্তাল করছে, তৈরি করছে জনমত ও পাচ্ছে সকলের সমর্থন। তাদের অনেকেই বলছেন অষ্টগ্রামে চোরাই মোটর সাইকেলের হার বেড়ে যাওয়ায় সস্তায় সেসব গাড়ি কিনে সবাই বেপরোয়াভাবে সেগুলো চালিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে।
মনির সাদত লিখেছেন, “খোকাদের জীবন সংসারে সুখ শান্তি ফিরে এসেছিলো। মৃত্যু নামক বার্তা সবকিছু কেড়ে নেয়। জানিনা এর বিচার পাবে কিনা খোকার পরিবার? আতংকিত হাজারো খোকার পরিবার এভাবে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালিয়ে কতনা খোকার প্রাণ যায়।”
কামরুল হাসান বাবু লিখেছেন, “কাগজ বিহীন গাড়ী আর লাইসেন্স বিহীন চালক। ওদের হাতে আমাদের জীবন হুমকির মুখে। অনেক আগেই বলা হলেও প্রশাসন নীরব না হলেও সরব হয়নি। এর জন্য আমরাই দায়ী। ফুটপাতবিহীন এই পথে ওদের হাতে আমরা কেহই নিরাপদ নই। কিছু দিন আগে আনোয়ার পুর গ্রামের একটি শিশু মেয়ের নিথর দেহ নিজে বহন করেছি আজ খোকার লাশের খবর। খোকার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং সঠিক বিচার দাবি করি।”
রুহুল আমিন রনি লিখেছেন, “টাকার বিনিময়ে যদি মানুষ মাইরা সেভ হওয়া যায় তাহলে টাকাওয়ালা নেতার রাজনীতি করুম। চুরির মোটর সাইকেল দিয়া যদি হিরু হওয়া যায় তাহলে মোটরসাইকেলের মেলা দিমু।”
আব্দুল হাকিম নামে একজন লিখেছেন, অষ্টগ্রামে লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল ও লাইসেন্স বিহীন চালকদের প্রশাসনের আওতায় আনা হোক।
আবু সালেহ লিখেছেন, “মোটর সাইকেল চালক যদি অপরাধী হয় তার বিচার হওয়া খুব জরুরি। তা নাহলে এর খেসারত অনেককেই দিতে হবে।”
সামিউর ছোটন লিখেছেন, “অষ্টগ্রামের মোটরসাইকেল, অটো, অটোরিক্সার চালকগন সবাই বেপরোয়া গাড়ি চালায়। যার ফলে দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি বিষয়টি নজরে না নেন তাহলে যাত্রীদের, এবং পথচারীদের প্রতিনিয়তই রাস্তাঘাটে অকালে জীবন দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ইফতেখার আলম খোকা, ১২, পূর্ব অষ্টগ্রাম পুকুর পাড়ের প্রয়াত রফিকুল ইসলাম নার্গিসের ছেলে।
অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ কর্তৃক জানা যায়, গত ১৮ জুন (সোমবার) খোকা ও অপর এক যুবক ঈদের ছুটিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সেতুতে মোটর সাইকেল নিয়ে বেড়াতে যায়। পথে সংযোগ সড়কে অপর একটি মোটর সাইকেল তাদেরকে ধাক্কা দিলে খোকা গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে অষ্টগ্রাম ও ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সে মৃত্যুবরণ করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দাফনের জন্য তার লাশ অষ্টগ্রামে গ্রামের বাড়িতে নেয়া হলে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারীতে ভারী হয়ে ওঠে অষ্টগ্রামের আকাশ-বাতাস।

