রাষ্ট্রপতির কাছে ছেলের চাকরি চান শোভা মাঝি
গোলাম রসূল | ৯:৪৬ অপরাহ্ন, ১৯ মে, ২০১৮

শহীদুল ইসলাম জেমসের সাথে শোভা মাঝি (ডানে)
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে ছেলের জন্য চাকরি চেয়েছেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ইকরদিয়ার শোভা মাঝি।
শনিবার অষ্টগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমসের মাধ্যমে শোভা মাঝি রাষ্ট্রপতির নিকট তাঁর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা ছেলের জন্য চাকরি চেয়েছেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেন শহীদুল ইসলাম জেমস। তাঁর লেখাটিতে শত শত লাইক আর কমেন্ট পরতে থাকে। সবাই শোভা মাঝিকে নিয়ে লেখার জন্য চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস-এর উদার মানসিকতার প্রশংসা করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে।
বিষয়টি ভাটির রানির নজরে আসে। যোগাযোগ করা হয় শহীদুল ইসলাম জেমসের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, “মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের জন্য নিবেদিত প্রাণ শোভা মাঝি। তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাতেই ফেসবুকে লিখেছি। শোভা মাঝিকে নিয়ে লিখতে পাড়ায় আমারও অনেক ভাল লাগছে। আশা করি মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আমাদের প্রিয় এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক উনার দাবিটি পূরণ করবেন।”
শহীদুল ইসলাম জেমসের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হল...

এক “শোভা মাঝি” এর আত্মকথা।
—————————————-
১৯৮৬ সাল বাংলা মাঘ মাস, প্রচন্ড শীত।আজকের মহামান্য তখনকার মাননীয় সাংসদ জনাব মো:আ: হামিদ আমাদের প্রিয় হামিদ ভাই এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অষ্টগ্রাম এলাকায় নির্বাচনী কাজে আসলে সাধারনত আমি, সৈয়দ আ:নঈম, সৈয়দ শাজাহান ও বাচ্চুদা উনার সফর সঙ্গী থাকতাম।সারাদিন কলমা ঘুরে নদী পাড় হয়ে চলে যাই ডালার কান্দি, শিবলা ও শরীফ পুর।তখন সফর সঙ্গী বেড়ে বাংগাল পাড়ার সবধর মিয়া ও পূর্ব অষ্টগ্রাম এর আ: হাই ভূইয়া যোগ হন।রাত প্রায় একটা পর্যন্ত চারটি উঠান বৈঠক করে ইকরদিয়া গ্রামের অপর দিকে নদীর পাড়ে রওয়ানা করলাম।রাস্তা ভুল করে অনেক ঘুরে গন্তব্যে পৌছলাম।শীতের রাত খেয়া নৌকার কোন সম্ভাবনা নেই।তারপরও ক্লান্ত হয়ে নদীর পাড় বসে পরলাম।এমন সময় হামিদ ভাই ডাকছেন শোভা রে শোভা, এ আবার কে? জানলাম খেয়ার মাঝির নাম, ভাবছি শীতের রাত শোভাকে কোথায় পাব। হঠাৎ হাই ভাই বললেন আপনারা অপেক্ষা করুন, বলেই অন্ধকারে হারিয়ে গেলেন।অনেক পরে অলৌকিক ভাবে খেয়া নৌকা পাড়ে ভিড়ল।পরম আনন্দে উঠে দাড়ালাম।সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে হাই ভাই বলছে সামনে আসবেন না বা টর্চ মারবেন না। আমরা থমকে গেলাম।ছায়ার মত দেখলাম একজন লোক নৌকা থেকে নেমে কাপড় পরে বলল নৌকায় উঠেন।নৌকায় উঠে দেখলাম জীর্ন শীর্ন মানুষ নৌকার হাল ধরে দড়িয়ে আছে।নৌকা ইকরদিয়া যাচ্ছে।ভাবছি নৌকা কি করে আসল। শোভা মাঝিকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কি করে আসলে। জবাব ভূইয়া সাহেব ঘুম থেকে তোলে নিয়ে এসেছে।সাবাই অবাক হয়ে হাই ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছি হঠাৎ শোভা মাঝি বলল নামেন সাহেব, পৌছে গেছি। আজ সকাল এগারটার দেখলাম অফিসে বৃদ্ধ জীর্ন শীর্ন একটি লোক দাড়িয়ে আছে।স্বভাব গত কারনে বসতে বললাম। লোকটা আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলছে হামিদ সাব কেমন আছে? নৌকা দিয়ে কত নদী পাড় করচি।আপনি কে ? জিজ্ঞেস করতে বলে আমি শোভা মাঝি।আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি কি ইকরদিয়ার সেই শোভা মাঝি? জী ! পোলাডারে আই এ পাশ করাইচি হামিদ সাবকি একটা চাকরি দিব? আর সামনে বাড়তে পারছি না।ইতো মধ্যে হাই ভাইয়েরা অনেকে না ফেরার দেশে পারি জমিয়েছেন।এ দের স্মৃতি শুধু আমাদে কাঁদায়। এখন শোভা মাঝির জন্য কিছু করা যায় কি?


3 Comments