ঝুলে আছে অষ্টগ্রামের আদমপুর বাজার লঞ্চঘাটের কাজ
ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
নজরুল ইসলাম সাগর | ৯:৩৬ অপরাহ্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এখানে রয়েছে একটি বৃহৎ বাজার ও লঞ্চঘাট। আদমপুর, মাদনা, কলমা, কদমচাল, ঢালারকান্দি, হালালপুর, সাপান্ত, চৌদন্ত, কামালপুর, খয়েরপুর, আব্দুল্লাহপুর, লাখাইসহ আশপাশের এলাকার লোকজনের জন্য এ বাজার ও লঞ্চঘাটের গুরুত্ব অনেক।
প্রতিদিন এখানে বেশ কয়েকটি লঞ্চ ও ৫০/৬০ টি ট্রলারে শত শত যাত্রী ও লাখ লাখ টাকার মালামাল উঠানামা হয়। আর বাজারে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার লোকের সমাগম হয়। বাজারটির গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে, জনগণের সুবিধার্থে তিন বছর আগে এ বাজারের লঞ্চঘাটে এলজিইডির মাধ্যমে একটি ঘাট তৈরির কাজ শুরু হয়, যা ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এ কাজটি এখনো শেষ হচ্ছেনা। যার ফলে মালামাল উঠানামাসহ ব্যবসায়ী, লঞ্চযাত্রী ও সাধারণ জনগণের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, ঘাট এর নির্মাণ কাজ কবে শেষ হবে, কিংবা আদৌ শেষ হবে কিনা তা বুঝা যাচ্ছেনা।
বর্ষাকালে হাওর এলাকা আদমপুরের সকল রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। গ্রামগুলি পানিতে ভাসতে থাকে দ্বীপের মত। তখন লঞ্চ বা নৌকা ছাড়া এখানকার জনগণের যাতায়াতের অন্য কোন ব্যবস্থা থাকেনা। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালামালসহ বাজার ও লঞ্চঘাটের যাত্রীদের উঠানামা করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, “ঘাটলা নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে আমাদের এ সমস্যা আর থাকতো না।”
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ঘাট নির্মাণ সামগ্রী যত্রতত্র পড়ে নষ্ট হচ্ছে, রডগুলি মরিচা পরে কাজের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, যে কাজ সর্বোচ্চ ছয় মাসে শেষ হওয়ার কথা, তা তিন বছরেও শেষ হচ্ছে না। তাছাড়া ঘাটলা নির্মাণে নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট ও মরিচা পড়া নিম্নমানের রড ব্যবহার করা হচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব মোর্শেদ ভাটির রানিকে বলেন, “২০১৬ সালের শেষ দিকে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা। আমরা বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার কাজটি এখনো শেষ করতে পারেনি। আমার জানামতে এ পর্যন্ত ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী কাজের জন্য তাকে আগামি মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাজটি শেষ করতে ব্যর্থ হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ঠিকাদারের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং ফিরতি কলও করেননি।

