অষ্টগ্রামে এ্যাম্বুলেন্স চালু করল কাস্তুল ইউনিয়ন পরিষদ
একটি জরুরী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ
বিশেষ প্রতিনিধি | ৩:৪৩ অপরাহ্ন, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ এ্যাম্বুলেন্স নামে এ পরিবহন সেবা হাওর এলাকার অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সেবার এক নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন এটি একটি জরুরী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
গ্রামীণ এ্যাম্বুলেন্স বিষয়ে মঙ্গলবার কথা হয় কাস্তুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল হক রন্টির সাথে। তিনি ভাটির রানিকে জানান, মাত্র একদিন আগে (সোমবার) এ্যাম্বুলেন্সটি আনা হয়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রশংসা করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টাটাসও দিচ্ছেন।
সাইফুল হক রন্টি জানান স্থানীয় সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের মাধ্যমে এ্যাম্বুলেন্সের উদ্বোধন করা হবে। তবে এর আগে যদি কারো প্রয়োজন হয় তবে এ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করতে পারবে। এ্যাম্বুলেন্সটি কিভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সাথে তিনি অচিরেই বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানালেন।
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সেবাটি পাওয়া যাবে। তবে এ্যাম্বুলেন্সটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। আর এর চালকের বেতন প্রদান করা হবে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে।
ব্যাটারি চালিত এ্যাম্বুলেন্সটি তৈরি করা হয়েছে কিশোরগঞ্জ সদর থেকে। এর ভিতরে রোগীদেরকে আরামে শুইয়ে হাসপাতালে আনা-নেওয়া করা যাবে। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে দুই লাখ টাকা। অর্থায়ন হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের এল. জি. এস. পি-৩, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের প্রকল্প থেকে।
এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করার বিষয়ে সাইফুল হক রন্টি ভাটির রানিকে বলেন, “মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও উনার ছেলের অবদানে আমাদের এই দুর্গম হাওর এলাকায় রাস্তাঘাট হয়েছে এবং আরো হচ্ছে। আমরা এর সুফল পরিপূর্ণভাবে ভোগ করার জন্যই এই সেবাটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছি।”
“কিছুদিন আগে ভিজিএফ-এর চাল নিতে এসে স্ট্রোক করেন আমার এলাকার তাজুল ইসলাম। আমি তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য একটি রিক্সাও পাইনি। ফলে সে মৃত্যুবরণ করে। আমি চাই এইরকম পরিস্থিতিতে যেন আর কারো মৃত্যু না হয়। গর্ভবতী নারীদের জন্যও সেবাটি অনেক উপকারে আসবে,” যোগ করেন সাইফুল।
তিনি আরো বলেন, “ভাটির রানির মাধ্যমে আমি বলতে চাই অষ্টগ্রাম হাসপাতালের সাথে সড়ক পথে সংযুক্ত বাকি ৪ টি ইউনিয়ন-দেওঘর, বাঙ্গালপাড়া, অষ্টগ্রাম সদর ও পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদও এইরকম উদ্যোগ নিয়ে এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করতে পারে। কারণ, প্রত্যেক ইউনিয়নেই এল. জি. এস. পি প্রকল্প রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি উনারা আমার চেয়ে আরো ভাল করে সেবাটি প্রদান করতে পারবেন।”

