ভৈরবে চেতনানাশক স্প্রে হামলা: একই পরিবারের ছয়জন অজ্ঞান
নিউজ ডেস্ক | ৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

চেতনানাশক স্প্রে হামলায় অসুস্থ হয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছয়জন। ছবি : এনটিভি
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর গাছতলা ঘাট এলাকায় আবার চেতনানাশক স্প্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ ও নারী-পুরুষসহ ছয় সদস্য অচেতন হয়ে পড়ে। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন স্বজনরা। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসকের গভীর পর্যবেক্ষণসহ পরিচর্যায় রয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা অতিবাহিত না হলে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যের অগ্রগতির বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
সাতদিন পর একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী সোহাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা অপরাধীদের গ্রেপ্তারে জনগণের সহায়তা কামনা করে বলেন, পুলিশ তৎপর আছে। জড়িতরা কোনোভাবেই রক্ষা পাবে না। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আক্রান্তদের দেখতে যান এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী জাকির মিয়ার পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় হাজি হীরা মিয়া (৬০) তাঁর পরিবারের লোকজনসহ ভাড়া থাকেন। তাঁর দুই ছেলে লোকমান ও জাকির হোসেন প্রবাসী। থাকেন সৌদি আরবে। প্রতিদিনের মতো গতকাল সোমবার রাতে হীরা মিয়ার পুত্রবধূ (লোকমানের স্ত্রী) তানিয়া (২৫) তাঁর শিশুসন্তান হাবিবুল্লাহকে (৭) খাবার খেতে দেন। খাবার খাওয়ার ১০ মিনিট পর হাবিবুল্লাহ ক্রমশ নেতিয়ে পড়তে থাকে। তখন তিনি ছেলের মাথায় পানি ঢেলে বিছানায় শুইয়ে দেন। পরে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবার দিয়ে এশার নামাজ পড়তে দাঁড়ান। নামাজ পড়ে তিনি ও তাঁর শাশুড়ি পরিষ্কার বানু (৫০) খাবার খান। খাবার শেষে তানিয়া তাঁর ছেলে হাবিবুল্লাহকে দেখতে যান। তখন দেখেন হাবিবুল্লাহ গভীর অচেতন হয়ে পড়ে আছে। পরে একে একে শ্বশুর হীরা মিয়া, ননদ এভি আক্তার (১৮), ভাশুরের ছেলে প্রীতমের (১০) অবস্থাও একই রকম হয়ে পড়লে তিনি কান্না-চেঁচামেচি শুরু করেন। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখেন তানিয়া ও তাঁর শাশুড়িসহ পরিবারের ছয় সদস্যই অচেতন হয়ে পড়েছে। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. খুশবু বলেন, ‘খাবারের সঙ্গে স্প্রে করা চেতনানাশক বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন সবাই। তারা হাসপাতালে আসার পর পরই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। তবে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত রোগীর উন্নতি-অবনতি বিষয়ে কিছুই বলা যাবে না।’
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কে এন এম জাহাঙ্গীর জানান, গতকাল সোমবার রাতে একই পরিবারের ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করায় তাদের প্রতিবেশীরা। তারা সবাই অজ্ঞান ছিল। তাদের খাবারে চেতনানাশক ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি জানান, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত না হলে এ ঘটনা ঘটবে না।
ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘একই পরিবারের ছয়জনের অজ্ঞান হওয়ার খবর পাওয়ার সাথে সাথে রাতেই ওসিসহ ভৈরব থানার অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সেখান থেকে উদ্ধার করা খাবারের নমুনা এনে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন এলে আমরা বলতে পারব কোন জাতীয় বিষক্রিয়া মেশানো হয়েছিল। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় দুটি ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। আশা করছি অচিরেই আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’
ভৈরব পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী সোহাগ বলেন, ‘এ ঘটনায় আমিসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ আতঙ্কিত। ঘটনাগুলো বিত্তবানদের বাড়িতে ঘটছে। হয়তো মালামাল লুটের জন্য এই অপতৎপরতা। স্প্রে করার পর মালামাল নেওয়ার সুযোগ পায়নি বলে দুটি ঘটনায় সম্পদহানির ঘটনা ঘটেনি।’ এ বিষয়ে তিনি এলাকাবাসীর সচেতনতা কামনা করেন।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর শহরের ভৈরবপুর গাছতলা ঘাটের পাশে কমলপুর গাছতলাঘাট বাজার সংলগ্ন মরহুম হাজি তেলু মিয়ার বাড়ির পাঁচতলা দালানের নিচতলায় অনুরূপ ঘটনায় একই পরিবারের ১৩ সদস্য অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সূত্র: এনটিভি

