বইমেলায় আসছে কিশোরগঞ্জের সন্তান আবু বকরের নতুন বই
বিশেষ প্রতিনিধি | ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭

আবু বকর ছিদ্দিক (সংকর অনার্য)
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আলীনগর গ্রামের কৃতিসন্তান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আবু বকর ছিদ্দিক (সংকর অনার্য) এর সম্পাদনায় ‘বাঙ্গালি রক্তধারার উদ্ভব, বিকাশ ও আদি নৃগোষ্ঠী’ নামক একটি বই আগামী বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে। বইটি দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ।
ইতিহাস ভিত্তিক এ বইয়ের সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক ভাটির রানিকে জানালেন বর্তমানে বইটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ বইয়ে পাঠকরা নতুন কিছু পাবেন বলে জানালেন তিনি।
বইটির মূল উপজীব্য হল সর্বশেষ কোয়াটার্নারি বরফ যুগের ( শুরু ৫ লক্ষ ৮০ হাজার বছর আগে, শেষ ১ লক্ষ ১০ হাজার বছর আগে।) এ সময় আফ্রিকায় বিরূপ আবহাওয়া দেখা দিলে নিগ্রোয়েডরা মাইগ্রেশান করতে শুরু করে। মহাজাতি নিগ্রোয়েডদের প্রথম দল নেগ্রিটো জাতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সহ বাংলায়ও প্রবেশ করে।
পুরাপ্রস্তর যুগীয় সভ্যতা শুরু হয় বাংলায়। বরফ যুগ শেষ হলে সাগরের পারি ধীরে ধীরে গলতে থাকে। সে সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিগ্রোয়েড - অস্ট্রিকরা ( প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিগ্রোয়েডদের অস্টিক নামে ডাকা হয়।) বিভিন্ন দ্বীপে উঠে আসে, আসে সমুদ্র তীরের দেশ বাংলায়ও। সময়টা প্রায় ৬০ হাজার বছর আগে। তারা বাংলায় সর্বপ্রথম ধান চাষ বা কৃষি অর্থনীতির প্রবর্তন করে। আর পূর্বের নেগ্রিটো জাতির সঙ্গে বৈবাহিক সম্বন্ধ করে এক হয়ে যায়।
এরপর প্রায় ১০ হাজার বছর আগে আসে দ্রাবিড় জাতি। তারাও পূর্বের জাতির সাথে মিশে বাংলায় নগর সভ্যতার পত্তন করে। সর্বশেষে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে আসে মঙ্গোলীয়রা। তারাও পূর্বের জাতি সমূহের সাথে বৈবাহিক সূত্রে মিশে যায়। অর্থাৎ নেগ্রিটো+অস্ট্রিক+দ্রাবিড়+মঙ্গোলীয়= সংকর বাঙালি। ৩০০ খ্রী. আর্য জাতি কর্তৃক বাংলা দখলের পর হিন্দুদের জাতভেদ প্রথার কারণে সংকরায়ণ বন্ধ হয়ে যায়। ১২০৪ খ্রী. আগত মুসলিম জাতিও বৈবাহিক ব্যপারে অনুদার। তাই বাঙালি হিন্দু মুসলিম দুটি বিভাজনে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
সংকরায়ণ বন্ধ হওয়ায় যারা পাহাড়ে বা বনে বাস করতো তারা আর বাঙলার মূল স্রোতে মিশতে পারেনি। হাজার হাজার বছর বনে বা পাহাড়ে বাস করায় একই গোষ্ঠীর মধ্যেও বিভাজন দেখা দেয়। সেজন্য একই মঙ্গোলয়েড প্রায় ৪০ টি ভাগে ভাগ হয়েছে। অর্থাৎ সমতলের বিপরীত ধারা চলে পাহাড়ে ও বনে।
নগরায়ণের ফলে ডিফরেস্ট্রেশান শুরু হলে জঙ্গল ও পাহড়ের মানুষগুলো দৃষ্টিগোচর হয়। এরাই আজকের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নামে পরিচিত। সমতলের লোকেরা এদের আগন্তুক মনে করে। আসলে এরা আগন্তুক নয় বাঙালি জাতির পূর্বপুরুষ। অর্থাৎ হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সমূহ তাদের পিতামাতার জাতি।

