শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ হাওরাঞ্চল হাওরে শিক্ষার আলোয় রোটারী ডিগ্রী কলেজ

হাওরে শিক্ষার আলোয় রোটারী ডিগ্রী কলেজ

এগিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা

মন্তোষ চক্রবর্তী | ৩:২০ অপরাহ্ন, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

1510305613.jpg

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি, ভাটির রানি খ্যাত কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম এখন আর উচ্চশিক্ষায় পিছিয়ে নেই। এক সময়ের শিক্ষা ও যোগাযোগ পশ্চাদপদ এই উপজেলা এখন সর্বক্ষেত্রে অগ্রগামী। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে উপজেলার একমাত্র রোটারী ডিগ্রী কলেজ জনজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে। নারী শিক্ষায় স্থাপন করেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।  

শুধুমাত্র কিশোরগঞ্জ জেলা নয়, জাতীয় পর্যায়েও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে এ কলেজের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ কলেজটি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদেশী দানবীর এবং দেশের অগণিত শিক্ষাব্রতী মানুষ কাজ করে যাচ্ছেন। 

কলেজটি স্থাপিত হয় ১৯৯১ সালে। প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মরহুম আলহাজ্ব এমদাদুল হক জসিম। তিনি ছিলেন উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের সূর্যসন্তান, রোটারী ক্লাব বাংলাদেশের সাবেক গভর্ণর এবং সমাজ ও মানবতার কল্যাণে এক নিবেদিত প্রাণ।  

১৯৯৩ সালের শুরুর দিকে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল গর্ভনর অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক পিডিজি জেকনাল কারভিজ অষ্টগ্রামে আসেন এবং এ কলেজটিকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৈরির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি কলেজের উন্নয়নের জন্য লক্ষাধিক টাকা দান করেন। স্থানীয় সুধি সমাজ থেকে কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়।  

এ ব্যাপারে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমসকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বভার প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজের অধ্যাপক মরহুম কাজী আব্দুল মোমেন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। 

জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার হুমায়ুন খান পন্নী কলেজের শুভ উদ্বোধন করেন। তখন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় অর্ধশতাধিক। পরবর্তীতে একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা মো: মোজতাবা আরিফ খান অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিশেষ উদ্যোগে গড়ে উঠে একাডেমিক ভবনসহ নানান অবকাঠামো। 

পরিবর্তনের ছোঁয়া এসে সর্বত্র নতুনত্ব সৃষ্টি করে। রোটারী কলেজও নতুন আঙ্গিকে গড়ে ওঠছে। স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এর ম্যুরাল। কলেজ ক্যাম্পাসের চতুরদিকে তৈরি করা হয়েছে প্রাচীর ও দৃষ্টিনন্ধন ফুলের বাগান।  

বর্তমানে এ কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১,১২৪জন। কলেজের অধ্যক্ষ মোজতাবা আরিফ খান বলেন, “আমি মনে করি শিক্ষাক্ষেত্রে সঠিক তদারকি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার উপরে নির্ভর করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভৌগলিক পরিবেশ, সামাজিক পরিবেশ, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা সবকিছুই চিন্তা করে সরকার, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”  

অতিসম্প্রতি কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।  

এ ব্যাপারে কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সৈয়দা নাসিমা আক্তার জানান, অধ্যক্ষ মহোদয়ের কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় নারী শিক্ষায় রোটারী কলেজ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। 

“বর্তমানে এ কলেজের মেয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ৬৬ ভাগ। যদি বি.এস.সি ও বি.কম চালু করা যেত তাহলে মেয়ে শিক্ষাথীর সংখ্যা আরও বেশি হত।”  

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপ-সচিব তরফদার মোঃ আক্তার জামিল ভাটির রানিকে বলেন, “এ কলেজের শিক্ষার মান আরও উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।”

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM