শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ হাওরাঞ্চল সমাজকর্মী নাসিমা আক্তার

সমাজকর্মী নাসিমা আক্তার

গোলাম রসূল | ৬:২০ অপরাহ্ন, ৬ নভেম্বর, ২০১৭

1509970839.jpg

সৈয়দা নাসিমা আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম রোটারী ডিগ্রী কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। রাজনৈতিক পরিচয় অষ্টগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। তার স্বামী শহীদুল ইসলাম জেমস একাধারে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং একই কলেজের দুইবারের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবে সব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি সমাজকর্মী রীতা (ডাকনাম) ম্যাডাম নামেই সবার নিকট সমধিক পরিচিত।

গোটা উপজেলায় তিনি নানান রকম সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ করে আসছেন। করেন মানবিক কাজও। এর মধ্যে তালাকপ্রাপ্ত নারী, নির্যাতিত নারী ও দুস্থ নারীদের পক্ষে কাজ করেন অবিরত। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কারণে সৈয়দা নাসিমা সমস্ত উপজেলায় একটি বলিষ্ঠ নাম।

পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা থাকার কারণে নাসিমা নিজের বেতনের ৯৫ ভাগ ব্যয় করেন বিভিন্ন সামাজিক কাজে। জানালেন উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়ন থেকে সাপান্ত পর্যন্ত শত শত স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া গরিব মেয়েদের আর্থিক সহায়তা করেছেন। তাদেরকে বই-খাতা, কলম, ইউনিফর্ম কিনে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই, তারা যেন পড়ালেখা থেকে ছিটকে না পড়ে। দুই গৃহকর্মীকেও তিনি নিজের মেয়েদের মতই মনে করেন।

বাল্যবিবাহ ও মাদকের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন। বাল্যবিবাহের শিকার অনেক মেয়ে তাকে সরাসরি ফোন দিয়েছেন এবং তিনি প্রশাসনের সহায়তায় স্বশরীরে গিয়ে ঐ সমস্ত বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। মাদকের নেশা একটি পরিবারকে কিভাবে ধ্বংস করে দেয় তা এ সমাজহিতৈষীর ভালোভাবে জানা আছে। তার আপন ছোট ভাই সৈয়দ ইমরুল কায়েস মাদকাসক্ত। বললেন, “ছোট ভাই মাদকাসক্ত বলে আমরা পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি চাই আমার পরিবারের মত আর কোনো পরিবার যেন এমন বাজে অভিজ্ঞতার স্বীকার না হয়। তাই আমি গোটা উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাই, প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিই মাদকাসক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে।” কলেজের শ্রেণিকক্ষেও তিনি শিক্ষার্থীদের তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন করেন। যৌনশিক্ষা থেকে শুরু করে সকল ধরনের শিক্ষায় তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করছেন। সকল ধরনের বিষয়ে সহজে কথা বলে সহায়তা পায় বলে শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়।

নিজের সংসার ও শিক্ষকতা সামলিয়ে কিভাবে অন্যান্য সামাজিক কাজ করা সম্ভব হয় জানতে চাইলে সৈয়দা নাসিমা জানান, “একজন মানুষ হিসেবে আমি মনে করি আমার কিছু সামাজিক দায়দায়িত্ব রয়েছে। তাই সবসময়ই চেষ্টা করি সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। বিশেষ করে নারীদের পক্ষে আমি সারাজীবন কাজ করে যেতে চাই। তাদের অধিকার আদায়ে আমি বরাবরই সোচ্চার। আমার সমস্ত কাজে স্বামী শহীদুল ইসলাম জেমস সমর্থন দেয়। সবচেয়ে বড় সহায়তাটা আমি পাই উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কাছ থেকে। তাদের সহায়তায় আমি নারীবান্ধব কাজগুলো করতে সমর্থ হই।”

বিভিন্ন সামাজিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা প্রশাসন থেকে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-রোকেয়া দিবস উপলক্ষে জয়িতা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দুইবার।

শিক্ষাজীবনে নাসিমা ইডেন কলেজ ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেছেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী তিনি। বড় মেয়ে সাদিয়া ইসলাম স্বর্ণা পেশায় ডাক্তার। ছোট মেয়ে সাজিয়া ইসলাম শর্মি ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। একমাত্র ছেলে সাকিফ রিফাত যুক্তরাষ্ট্রে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছে। রিফাত ‘হিউম্যান শেড’ নামে একটি মানব কল্যাণ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM