অস্টগ্রাম রোটারী ডিগ্রি কলেজ: অন্যরকম ক্যাম্পাস
গোলাম রসূল | ৮:৫৫ অপরাহ্ন, ৫ নভেম্বর, ২০১৭

অস্টগ্রাম রোটারী ডিগ্রি কলেজ। কলেজের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে সুপরিসর রাস্তায় পা দিলে যেকারো মনে হতেই পারে এটি কোনো মহাসড়ক এর অংশ কি না। কিন্তু না, মহাসড়ক নয়, এটি কলেজের অভ্যন্তরে প্রবেশ পথ। সুপরিসর এ রাস্তা দিয়ে কয়েক কদম হাঁটলেই চোখে পড়বে বাংলাদেশের স্থপতি দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সুবিশাল নয়নাভিরাম ম্যুরাল।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজতাবা আরিফ খাঁন বলেন, শিক্ষার্থীরা কলেজে পা রেখেই যেন প্রথমে বঙ্গবন্ধুকে দেখে এবং তারা যেন জাতির জনক সম্পর্কে প্রাথমিক শিক্ষা পায় সেজন্য এ ম্যুরালটি প্রবেশমুখে স্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তারা বিস্তারিত জানবে পাঠ্যপুস্তক থেকে। আর বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ভাটির কর্ণধার। তাঁর সম্পর্কে না জানলে এই এলাকার শিক্ষার্থীদের জ্ঞান পরিপূর্ণ হবে না। দুই রাষ্ট্রপতির প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা থেকেই এ ম্যুরাল নির্মাণ, যোগ করলেন আরিফ খাঁন।
ম্যুরালটির অর্থায়ন নিয়ে আরিফ খাঁন জানান, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তায় এটির প্রাথমিক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বিশিষ্টজনরাও কিছু অর্থায়ন করেছেন। সাংসদ রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক ম্যুরালটির কাজ সম্পূর্ণ করতে অর্থায়ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জানালেন এ অধ্যক্ষ।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন চারতলা একাডেমিক ভবন। নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ ভবনটিতে থাকবে শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব, ছাত্রীদের কমনরুম এবং শিক্ষকদের মিলনায়তন।
নতুন ভবনে প্রতিষ্ঠা করা হবে সুপরিসর লাইব্রেরি। সেটি এমনভাবে সাজানো হবে যেন দুনিয়ার সকাল বিষয়বস্তু এখান থেকে জানা যায়। জ্ঞান আহরণের সমস্ত কিছুই থাকবে লাইব্রেরিতে। পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, কম্পিউটারাইজড ব্যবস্থা-যেন শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটে সার্চ করে যে কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। আরো থাকবে ই-বুক ও ই-পেপার। লাইব্রেরিটি হবে অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত। বর্তমানে তিন হাজার বই রয়েছে লাইব্রেরিতে। শিগগিরই বইয়ের সংখ্যা সাত-আট হাজারে উন্নীত করা হবে বলে জানালেন অধ্যক্ষ।
সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে কলেজের মূল ফটক। দৃষ্টিনন্দন, সুদৃশ্য ও মনোরম এ ফটকটি উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদের বড় ছেলে স্থানীয় সাংসদ রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক। এটির অর্থায়নেও সহযোগিতা করেছেন সাংসদ তৌফিক।
কলেজের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা বর্তমানে ১,০৫৭ জন। আর এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মেয়ে। আবার এই মেয়েদের ৯০ শতাংশ এবং সার্বিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী বিনা বেতনে কলেজে অধ্যয়ন করছে বলে জানালেন ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসিমা রীতা। তিনি জানালেন যে সকল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন নেওয়া হয় তার পরিমাণ নেহাত সামান্যই। যেটি অত্র এলাকার অনেক স্কুলের তুলনায়ও কম। একই বিভাগের তরুণ প্রভাষক মনোয়ার হোসেন পুলক জানালেন কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে রেজাল্টে রোটারী কলেজ দ্বিতীয় স্থানে আছে।

