হাওরের দেশীয় প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে
মন্তোষ চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিবেদক | ৭:৩০ অপরাহ্ন, ২৯ আগস্ট, ২০২০

মন্তোষ চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিবেদক: বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলের কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনা, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, বানিয়াচং, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, সরাইল ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে। এক সময় হাওর উপজেলায় দেশীয় মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে জাতীয় পর্যায়ে বাজারজাতসহ বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এখন আর তা হয় না বললেই চলে। খামারের মাছই এখন বাজার দখল করে ফেলেছে।
জানা যায়, হাওর উপজেলা থেকে ৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। এক সময় দেশের মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত হাওর উপজেলাগুলোতে অগণিত নদী বিল, হাওর ও খালে পরিপূর্ণ ছিল। মিঠা পানিতে পরিপূর্ণ এ উপজেলায় প্রায় ২৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর তা নেই। নদী নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল ভরাট করে কৃষি খেত অথবা ঘর তৈরি, জলমহালগুলোতে ইজারাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা, মাছের অভয়াশ্রমের পার্শ্ববর্তী জমিগুলোতে কীটনাশকের ব্যবহারে মাছ কমে যাচ্ছে। এছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ দিয়ে মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি, সেচ প্রকল্প, বিষ প্রয়োগে পাটি বাঁধ ও বিলের পানি সেচের মাধ্যমে মাছ আহরণসহ নানা কারণে হাওড় অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের পথে।
হাওড়াঞ্চলবাসী ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান কামরুল হাসান বাবু বলেন, ইজারাদারদের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব ও অধিক মুনাফার লোভে মা মাছ এবং পোনা অবাধে নিধনের ফলে এমনটি হচ্ছে। যদি প্রজননকালীন সময় স্থানীয় প্রশাসন সঠিকভাবে নজর রাখে তাহলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

