নিকলীতে বিয়ের কারণে জেএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি ৪৬ ছাত্রী
১০:৪২ অপরাহ্ন, ৩ নভেম্বর, ২০১৭

বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করার জন্য কিশোরগঞ্জে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলেও থামছে না বাল্য বিয়ে। জেলার হাওর উপজেলা নিকলীতে এ বছর ৪৬ ছাত্রী জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা দিতে পারছে না সম্প্রতি বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে।
নিকলী জেএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ১৩টি স্কুলে জেএসসি ও পাঁচটি মাদ্রাসায় জেডিসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করে ২ হাজার ৩২৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১১টি বিদ্যালয়ের ৪০ এবং চারটি মাদ্রাসার ছয় ছাত্রী জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের জারইতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রী, নিকলী শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের আট ছাত্রী, দামপাড়া কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের চার ছাত্রী, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী, এ বি নুরজাহান হোসেন উচ্চবিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী, করগাঁও ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নয় ছাত্রী এবং ভাটিবরাটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান এক ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি বিয়ে হয়ে যাওয়ায়।
নিকলী জেএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব নিকলী জিসি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কারার আব্দুর রশিদ বলেন, 'এসব ঘটনার মূল কারণ অভিভাবকদের অশিক্ষা ও কুসংস্কার। অনেক সময় বিয়ে হওয়ার পনের দিন পর আমরা জানতে পারি যে ছাত্রীটির বিয়ে হয়ে গেছে। তখন করার আর কিছুই থাকে না।'
সিংপুর ইউনিয়নের টেংগুরিয়া গ্রামে বাল্য বিয়ের শিকার ছাত্রীদের কয়েক জনের বাবা মায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, দারিদ্রের কারণে মূলত সন্তানদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন তারা। ছেলের বাবা বিয়ের সময় মেয়েকে পড়াশুনা করাবে বললেও পরে আর কথা রাখেনি।
তাছাড়া এখনো অনেক বাবা-মাই মনে করে মেয়েদের লেখাপড়া করে তেমন কোন লাভ নেই। তাই আগেভাগেই বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন তারা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরজ্জামান হাবীব বলেন, যে বাল্য বিবাহগুলো হয়েছে সেগুলো গোপনে হয়েছে। পরীক্ষার পর শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে উপজেলায় একটি সমাবেশ করা হবে, পাশাপাশি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে সবাইকে সচেতন করার কাজ চলবে।
বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকলী উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে সোহানা নাসরিন বলেন, গত এক মাসে নিকলীতে সাতটি বাল্য বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এর পরও ৪৬টি বাল্য বিয়ের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
সূত্র: সমকাল

