বৃহঃস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ হাওরাঞ্চল মিঠামইন থেকে জেলা সদরে যেতে ফ্লাইওভার হবে: রাষ্ট্রপতি

মিঠামইন থেকে জেলা সদরে যেতে ফ্লাইওভার হবে: রাষ্ট্রপতি

মন্তোষ চক্রবর্তী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি | ৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, ১২ অক্টোবর, ২০১৯

1570852115.jpg

মন্তোষ চক্রবর্তী: শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত হাওর এলাকা মিঠামইনে এক সুধী সমাবেশে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, মিঠামইন থেকে জেলা সদরে যেতে সময় বেশি লাগে। উঁচু রাস্তা করলে পরিবেশের ক্ষতি হবে। কাজেই মিঠামইন থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার ফ্লাইওভার করে নিকলী-গুনধর সড়কের সঙ্গে যুক্ত করে দিলে মাত্র আধা ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জ চলে যাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, হাওরাঞ্চল এক সময় চরম অবহেলিত ছিল। বর্ষাকালে মানুষ মারা গেলে কবর দেওয়ার জায়গা পাওয়া যেত না। কিছু বাড়িঘর উঁচু ছিল। এ ছাড়া ৯৫ ভাগ লাশই পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। তিনি নিজে এ দৃশ্য দেখেছেন। কিন্তু আজকে আর লাশ পানিতে ভাসাতে হয় না। এখন রাস্তা হচ্ছে। হাওরের চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। আরও উন্নতি হবে। এখানে পর্যটনের হোটেল মোটেল হবে, শিল্পকারখানা হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন বাইরের কেউ এসে এখানে জমি কিনতে না পারে। এলাকার কেউ চাইলে শিল্পকারখানার জন্য জমি কিনতে পারবে।

শুক্রবার বিকালে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। মিঠামইন উপজেলা চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতির ছোট বোন আছিয়া আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন স্থানীয় এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিলস্নুর রহমান ও পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আজিজুল হক। এর আগে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন মিঠামইন ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শরীফ কামাল।

রাষ্ট্রপতি হাওরের উন্নয়নের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে আরও বলেন, সাবমার্জেবল সড়ক হওয়ায় এখন মানুষ ১৫ মিনিটে মিঠামইন থেকে ইটনা বা অষ্টগ্রামে যেতে পারেন। আগে নৌকায় যেতে সারাদিন লাগত। অথবা হেঁটে যেতে হতো। অলওয়েদার উঁচু রাস্তাও হয়েছে। তিনি বলেন, হাওরের সৌন্দর্যের জন্য এবার 'ইত্যাদি' অনুষ্ঠান মিঠামইনে করা হয়েছে। রাজধানী এবং সিলেট থেকেও মিঠামইন, করিমগঞ্জের বালিখলা, নিকলীর বেড়িবাঁধ এবং অষ্টগ্রামে মানুষ আসছেন। তিনি বলেন, 'স্কুল জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। বাড়ি আমার হাওরে। এক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। মিঠামইনের মাত্র চার-পাঁচজন কলেজে পড়তাম। মেয়েরা পঞ্চম শ্রেণির বেশি পড়ত না। এখন প্রতি ইউনিয়নে হাইস্কুল হয়েছে। আব্দুল হক কলেজে প্রায় ১৪শ শিক্ষার্থী। স্কুলেও প্রায় ১৪শ শিক্ষার্থী পড়ে।'

রাষ্ট্রপতি বলেন, হাওরের উন্নয়নে রাস্তা করার জন্য জমি অধিগ্রহণ করার ক্ষেত্রে বাজার মূল্যের দেড়গুণ দাম পরিশোধ করা হতো। এখন তিনগুণ দাম পরিশোধ করা হবে। আর হাওরের বিভিন্ন উপজেলার অধিগ্রহণের টাকা যেন যার যার উপজেলাতেই পরিশোধ করা হয়, সেই ব্যবস্থা করার জন্য তিনি জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন। তবে সব জায়গায় পরিবেশের বিবেচনায় উঁচু রাস্তা করা যায় না। যেসব রাস্তা হয়েছে, সেগুলো রক্ষা করার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), অধ্যক্ষ আব্দুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক কর্তকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি গতকাল দুপুরে জেলা শহরের বাসা থেকে হেলিকপ্টারযোগে মিঠামইনে যান এবং সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি সেখানে নিজ বাড়িতে রাতযাপন করেন। আজ শনিবার তিনি মিঠামইনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন।

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM