কিশোর গ্যাং এবং ইয়াবা সামাজিক ভাবে রুখতে হবে: রাষ্ট্রপতি
মন্তোষ চক্রবর্তী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি | ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, ১১ অক্টোবর, ২০১৯

মন্তোষ চক্রবর্তী: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন আজকে কিশোর গ্যাং এবং ইয়াবার হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে কেবল আইন শৃংখলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না, সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গনে আইনজীবী সমিতির ১০ তলা বিশিষ্ট রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভবনের ভিত্তি ফলক উন্মোচন শেষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, বিচারপ্রার্থীরা হয়রানির শিকার হলে মানুষ আপনাদের কাছ থেকে দূরে চলে যাবে। কেবল মানুষের কাছ থেকে নেবেন না, মানুষকেও কিছু দেবেন। কল্যাণ তহবিলের জন্য একটি কোর্টফি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকায়। এটা অনেক বেশি। দেশের কোথাও এত টাকা নেয় না। দরিদ্র মানুষ বিচার পাবে কি করে। আমিও এখানে দীর্ঘদিন আইন পেশায় ছিলাম। আপনারা অনেকেই আমার সম্পর্কে জানেন। আমি কখনো মানুষকে বেকায়দায় ফেলে টাকা নেইনি। রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, আমি সত্তর সালে যখন সংসদ নির্বাচন করি, তখন সংসদে আইনজীবী ছিলেন ৫১ ভাগ। আর অষ্টম সংসদে যখন আমি স্পিকার ছিলাম, তখন ৩৪৫ জন এমপির মধ্যে আইনজীবী ছিলেন মাত্র ৩৩ জন। তাও আদালতে প্রাক্টিস করতেন মাত্র ১০-১২ জন। আগে আইনজীবীরা সামাজিকভাবেও নেতৃত্ব দিতেন। সমাজের অনেক সমস্যা সমাধানে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। এখন কি তারা মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। তিনি আরো বলেন, আইনজীবীরাও অন্যায় করতে পারেন। তাদের বিরুদ্ধে বা তাদের আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধেও কেউ মামলা করতে পারেন। কিন্তু তখন ওই ব্যক্তি কোন আইনজীবী পান না। এটা হতে পারে না, এটা অন্যায়। তারও বিচার পাবার অধিকার আছে। তিনি নরসুন্দা নদীতে পানি থাকে না উল্লেখ করে বলেন, আগুন লাগলে আগুন নেভানোর পানি পাওয়া যাবে না। এখন কেবল ব্যক্তিগত পুকুর নয়, কোথাও কোথাও সরকারী পুকুরও ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আইনজীবীদের ভূমিকা নিতে হবে। পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য কাজ করলে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। তিনি বলেন, আমি বঙ্গভবনে বন্দি থাকলেও এলাকার ভাল-মন্দ সব খবরই পাই। কারণ সপ্তাহে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ আমার সঙ্গে দেখা করতে যায়। এর অধিকাংশই কিশোরগঞ্জের। কাজেই ভাল খবরও পাই, খারাপ খবরও পাই। আমি যেমন আপনাদের কাছের মানুষ, আপনারাও আমার কাছের মানুষ। রাষ্ট্রপতি আইনজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জে অবিলম্বে বিদ্যুৎ কোর্ট এবং দুদক আদালত চালুর ব্যাপারে চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন। জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ, জেলা ও দায়রা জজ মো. সায়েদুর রহমান খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ও বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সহিদুল আলম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জেলা ও দায়রা জজ মো. সায়েদুর রহমান খানসহ অন্যান্য বিচারকগণ এবং জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সহিদুল আলম সহিদ রাষ্ট্রপতিকে পৃথকভাবে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি ) আফজাল হোসেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়–য়া, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) ছাড়াও বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বিকালে রাষ্ট্রপতি শহরের শ্যামসুন্দর আখড়া পরিদর্শন করেন। সেখানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

