তাড়াইলে স্বাধীনতা ৭১ ভাস্কর্য উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রপতি
মন্তোষ চক্রবর্তী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি | ৯:১০ অপরাহ্ন, ৯ অক্টোবর, ২০১৯

মন্তোষ চক্রবর্তী: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ‘স্বাধীনতা ৭১’ ভাস্কর্য উদ্বোধন করেছেন।
বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে রওনা হয়ে তাড়াইলের শিমুলহাটি হেলিপ্যাডে অবতরণ করে উপজেলা সদরে গিয়ে তিনি ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন। এরপর তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রী কলেজ মাঠে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
স্থানীয় এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে সমাবেশে রাষ্ট্রপতি চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তিনি সংসদ সদস্যসহ সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন যেন মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেন, মানুষকে সাহায্য করেন।
তিনি বলেন, অনেকেই নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই ব্যবহার পাল্টে যায়। এরকম যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহবান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, তিনি ছাত্রজীবনে প্রথম জনসভা করেন তাড়াইলে। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় এখানে পরুরা হাইস্কুল মাঠে জনসভায় প্রথম বক্তৃতা করেছিলেন। সেদিনই তাকে প্রথম ভাটির শার্দুল উপাধি দেয়া হয়। সেদিন আমার নামের পাশে ভবিষ্যৎ মন্ত্রী লেখা হয়। তিনি বলেন, সত্তরের নির্বাচনের সময় মিঠামইন থানা হয়নি। তখন তাড়াইল-ইটনা-অষ্টগ্রাম-নিকলী আসন থেকে এমএনএ পদে নির্বাচন করেছিলাম। নির্বাচনের সময় তাড়াইলের মানুষ শ্লোগান দিতেন, ‘গাছের আগায় পক্ষী, হামিদ ভাই লক্ষ্মী’। এ সময় সুধী সামাবেশের সবাই হেসে ওঠেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এখানকার সংসদ সদস্য এলাকার উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন, আমি সহযোগিতা করেছি, ভবিষ্যতেও করবো। তিনি এলাকার নদী খননের ক্ষেত্রেও পানি সম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা কলেজের একাডেমিক ভবনেরও ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের ভালভাবে লেখাপড়া ও ভাল রেজাল্ট করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক মোতাহার সমাবেশে সঞ্চালনা করেন।
এসময় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আফজাল হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর রাষ্ট্রপতি জেলা সদরের সার্কিট হাউজে সরকারী কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

