মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ হাওরাঞ্চল ১২৭ কোটি টাকার অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর মহাসড়কের বেহাল দশা

১২৭ কোটি টাকার অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর মহাসড়কের বেহাল দশা

নিউজ ডেস্ক | ৫:৩০ অপরাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

1568460657.jpg

নিউজ ডেস্ক: নির্মাণের পাঁচ বছর না যেতেই অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর মহাসড়কের বেহাল দশায় বিপাকে পড়েছে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের আটটি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ। উপজেলার একমাত্র ও জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির বেহাল দশায় বাজিতপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কিশোরগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সালেহীন জানান, ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রাস্তাটি তিনটি কোম্পানি যৌথভাবে ২০১১ সালে শুরু করে ২০১৪ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করে। হাওরের মাঝখানে নির্মিত এ রাস্তাটি জোয়ারের সময় স্রোতের টানে ক্ষয় হতে শুরু করে। সবুরেরভাঙ্গা ব্রিজের কাছে সংযোগ সড়কও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু রাস্তাটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বছরই একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় সওজ ও অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের নীরব সম্মতিতে এ বিচ্ছিন্ন ওই রাস্তায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে অবৈধ টোল বাণিজ্য চালাচ্ছে। হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী মো. সালেহীন বলেন, ‘চলতি বছরে সবুরের ভাঙ্গাব্রিজে সওজের উদ্যোগেই সাঁকো নির্মাণ করে এ অবৈধ টোল বাণিজ্য বন্ধ করা হবে।’

কারানল ব্রিজের উত্তর-পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কের প্রায় ৮০ ভাগ ধসে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাহাদুরপুর ও কাস্তুল পশ্চিম পাড়া বক্স কালভার্ড এবং জামে মসজিদের সামনের ব্রিজের সংযোগ সড়কে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ আগস্ট স্রোতের টানে অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর মহাসড়কের বড়ভাঙ্গা ব্রিজটি ধসে পড়লে স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে বর্তমানে স্থানটিতে বেইলি ব্রিজ নির্মাণ শুরু করা হয়। সেটি এখন শেষের পথে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজিতপুরের ঘোড়াউত্রা নদীর দীঘিরপাড় ঘাটে প্রায় ৮০ মিটার রাস্তা স্রোতের টানে ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার পাশে দেয়াল ধসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজ-কালভার্ডের সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে।

হাওরাঞ্চলবাসী ঢাকার সাধারণ সম্পাদক রোটারীয়ান কামরুল হাসান বাবু বলেন, ‘এখানে আবুরা সড়ক নির্মাণের পূর্বে কোনো সমীক্ষা করা হয়নি। হাওরের পানি প্রবাহ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ এবং হাওরের ব্যতিক্রম প্রাকৃতিক আচরণ বিবেচনা করা হয়নি। পানি প্রবাহের জন্য পর্যাপ্ত কালভার্ড, ব্রিজ বা উড়াল সেতু নেই। যে কারণে হাওরের পানি প্রবাহ মারাত্মক ভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

কামরুল হাসান বাবু আরও বলেন, ‘সমীক্ষার মাধ্যমে হাওর বান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে হাওর জনপদ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবুরা সড়ক রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়বে এবং এক সময় মরণ ফাঁদে পরিণত হবে।’

অষ্টগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস বলেন, ‘আমরা হাওরের মানুষ, আমরা বুঝি হাওর ও হাওরের পানির গতি-প্রকৃতি। এখানে হাওরের ভারসাম্য বজায় রেখেই কাজ করতে হবে। না হলে প্রকৃতি আমাদের সাথে বৈরী আচরণ করবেই। সড়ক নির্মাণের আগে কথাটি আমি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সওজ কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমলে নেয়নি। তাই ১২৭ কোটি টাকায় নির্মিত রাস্তাটির আজকে এ দুরবস্থা।’

রাস্তাটির দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে সড়ক ও জনপথ (সওজ)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, ‘অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিটামইন, আবুরা সড়ক নির্মাণের ফলে পানির গতি প্রবাহ পরিবর্তন হয়েছে, তাই রাস্তাটির এ অবস্থা।’ তবে স্থানীয় নেতাদের কথা অগ্রাহ্য করে এ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে তা তিনি অস্বীকার করেন।

সূত্র: আমাদের সময়

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM