ড্রেজারের বালুতে অষ্টগ্রামের কলমায় জমিতে আবাদ বন্ধ
কৃষকের হাহাকার, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত
মন্তোষ চক্রবর্তী, অষ্টগ্রাম | ৭:৫০ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭

কালনী কুশিয়ারা নদীতে ড্রেজারে মাটি কেটে নদী সংস্কারের কাজ চলছে।-ভাটির রানি
অষ্টগ্রামের কলমায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কালনী কুশিয়ারা নদী সংস্কার এর বালু ফসলী জমিতে পড়ে অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এসব আবাদী জমিতে ৫ থেকে ৭ ফুট বালুর স্তর পড়ায় আবাদ বন্ধ হয়ে বহু কৃষক পরিবারের ভাত-কাপড় সংস্থান হারিয়ে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে বাক নদীর তীরবর্তী কলমা গ্রামের কৃষকদের জমি এইভাবে অনাবাদী হয়ে পড়ায় কৃষকেরা বুক চাপিয়ে কান্না করছে।
অসহায় কৃষকদের পক্ষে বালু অপসারণ সহ আবাদী জমিতে ফসল উৎপাদনের দাবীতে কলমা গ্রামের কৃষক রতিকান্তদাসসহ নয়জন কৃষক পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন করেছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে বিগত ২-৩ বছর ধরে কালনী কুশিয়ারা নদীতে ড্রেজারে মাটি কেটে নদী সংস্কারের কাজ চলছে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এইসব ড্রেজার আদমপুর ইউনিয়নের ইছাপুরের তীরবর্তী এক নতুন কাটা নদীর সৃষ্টি করেছে। এই নদীর বালু পশ্চিম দিক থেকে সরে এসে বৈঠাখালি নদী ভরাট এবং আদমপুর বড় হাওরের বহু জমিতে বোরো উৎপাদনী প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের সুযোগের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং কলমা বাঁধ ইকরদিয়া মেঘনা নদীতে বালু এসে নতুন ছোট ছোট চরের সৃষ্টি করেছে। পরবর্তীতে এই প্রকল্পে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দুইটি কলমার বাঁধ ও পাশ্ববর্তী নদীর মাটি কাটতে শুরু করে।
কিন্তু ড্রেজারের বালু কলমা মৌজার উর্বর বোরো জমিতে ফেলার ফলে প্রায় দুইশত একর জমিতে ৫ থেকে ৭ ফুট বালুর স্তর পড়ে। ফলে এসব জমিতে বোরে ফসল উৎপাদন সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে গেছে বলে অনেক কৃষক এ প্রতিবেদককে জানান।
গত বোরো মৌসুমে এসব জমিতে ফসল না হওয়ায় অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং এসব জমিতে যারা মজুরী দিয়ে যারা জীবিকা নির্বাহ করতো, সেসব কৃষি মজুরের অনেকেই গ্রাম ছেড়ে ভাত-কাপড়ের জন্য অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে এই গ্রামের অনেক কৃষককে কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। অসহায় কৃষকদের ভাষ্য “আমাদের বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষ এই জমিতে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে গেছে, আমরাও করছি। এখন আমাদের বাড়ি-ঘর ফেলে শহরে গিয়ে মজুরি বিক্রি করে জীবন বাঁচাতে হবে?”
অপরদিকে কলমার জমি ছাড়া পাশ্ববর্তী হাওরের আরও তিন শতাধিক একর জমিতে বালু পড়তে শুরু করেছে বলে কৃষকদের জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ভাটির রানিকে বলেন, “বর্তমানে ড্রেজারের মাটি কাটা বন্ধ রেখেছি, পানি কমলে বাস্তবতা ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

