সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ হাওরাঞ্চল হাওর চাষিদের পিছু ছাড়ছে না দুর্যোগ

হাওর চাষিদের পিছু ছাড়ছে না দুর্যোগ

ঝোড়ো বাতাসে ঢলে পড়েছে আরো প্রায় ১৫-২০ হাজার একর জমি

নিউজ ডেস্ক | ৫:৫৫ অপরাহ্ন, ৫ এপ্রিল, ২০১৯

1554465315.jpg

নিউজ ডেস্ক: হাওরের চাষিদের দুর্যোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। কয়েকদিনের দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি এবং এর আগে ২৯ ও ৩১ মার্চের ঝড় এসে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি করে দিয়ে গেছে। শিলাপাতে কিশোরগঞ্জের নিকলী, বাজিতপুর, অষ্টগ্রাম ও ইটনার মধ্যবর্তী জোয়ানশাহী হাওরের কমপক্ষে ৩০ হাজার একর জমির আগাম জাতের ধান আংশিক ঝরে গেছে। ঝোড়ো বাতাসে ঢলে পড়েছে আরো প্রায় ১৫-২০ হাজার একর জমি। এ ছাড়া বাজিতপুর ও কুলিয়ারচরের সবজি, কলা এবং ভুট্টারও ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলেও হাওরে শিলাঝড় হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আগে ব্লাস্ট রোগ আক্রমণে চিটা পড়ে আগাম জাতের ব্রি-২৮ ধানের ক্ষতি হয়েছে। তাঁদের মতে, এসব দুর্যোগ সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের হাওরের ৫০ হাজার একর জমির বোরো ফসল তছনছ করে দিয়ে গেছে।

২০১৭ সালের অকাল বন্যায় ফসল হারানোর পর কৃষক এমনিতেই আতঙ্কিত। ধান কাটার মৌসুম শুরুর ঠিক আগে এ ধরনের দুর্যোগ হাওরের কৃষককে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। কৃষকরা জানায়, আগাম উচ্চ ফলনশীল বি-২৮ জাতের ধানের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। কৃষকদের মতে, শিলায় ছাওয়া জমির বারো আনা ধানই ঝরে পড়েছে। কারণ ব্রি-২৮ ধান ‘কলাপাকা’ হয়ে আসছিল। আর দুই-চার দিনের মধ্যেই কাটা শুরু হতো। এ ছাড়া ব্রি-২৯ জাতের ধান না পাকলেও শিলার চোটে গোছা ও ধানগাছের ডাটা ভেঙে নুয়ে পড়েছে। পাকার আগেই ধানগাছ হেলে পড়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা করছে।

গত বুধবার সরেজমিন হুমাইপুর হাওর, মাইজচর হাওর ও অষ্টগ্রামের কয়েকটি হাওর ঘুরে চোখে পড়ে কৃষকের হা-হুতাশ। দেখা যায়, ব্রি-২৮ ধানের জমি একরকম ফাঁকা। গোছায় ধান কম। আর এ সময়ে ধানের ভারে গোছা নুয়ে পড়ার কথা থাকলেও তা খাড়া হয়ে গেছে। কৃষকরা জানায়, ধান পড়ে যাওয়ায় গোছার এ অবস্থা। দেখা যায়, ওই সব জমির তলায় এবং আলের ওপর শিলার তোড়ে পড়ে যাওয়া ধান বীজতলার মতো বিছিয়ে আছে।

হুমাইপুর হাওরের কৃষক, আনোয়ারপুরের সুরুজ মিয়া জানান, অকাল বন্যার হাত থেকে বাঁচতে পাঁচ একর জমিতে আগাম জাতের ব্রি-২৮ ধান চাষ করেছিলেন। শিলায় ‘বারো আনা’ ধানই ঝরে গেছে। জমি চাষে ধারদেনা করে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা খরচ করেছিলেন। আশা ছিল সব মিলিয়ে ৪০০ মণেরও বেশি ধান পেতেন। সেই আশায় এখন গুড়েবালি। ফারুক মিয়া জানান, জমিতে ধান দেখে মনটা ভরে গিয়েছিল। শিলা সব শেষ করে দিয়ে গেছে।

কৈটুপী গ্রামের কৃষক আতর আলী জানান, তাঁর ৯ একর জমির মধ্যে আট একরই ব্রি-২৮ ধানের। এ আট একরেই ‘কাঁচি’ ধরা যাবে না। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘গেলবারের আগাম বাইষ্যায় ১৩ কানি (একর) জমির ধান আর ১০ কানির বাদাম আরাইয়াও (হারিয়েও) এক টেহা ক্ষতিপূরণ পাইলাম না। যারার জমি নাই হেরা সবতা পাইছে।’

বাজিতপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষতির হিসাব কষা হয়নি। তবে শিলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানায়, অগ্রহায়ণের শেষদিকে রোপণ করা ব্রি-২৮ ধানে চিটা পড়েছিল। আবার পৌষে লাগানো একই ধানের জমিতে দেখা দিয়েছিল ব্লাস্ট রোগ। তার পরও কৃষকরা ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিল। শিলাবৃষ্টি আর ঝড় এসে সব তছনছ করে দিয়ে গেছে। তাঁদের মতে, অকাল বন্যা, শিলাবৃষ্টি বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো আর কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে হাওরের কৃষক এবার রক্ষা পাবে। নয়তো আবারও বিপন্ন হবে হাওরজীবন।

কৃষকরা যা-ই বলুক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা দিচ্ছেন অন্য তথ্য। তাঁরা বলছেন, শিলাঝড়ে মাত্র ৯ হাজার ৮৩৪ একর বোরো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বাইরে ঝোড়ো হাওয়ায় ‘সামান্য’ পরিমাণ জমির গোছা হেলে পড়েছে। কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেওয়া তথ্যের ফারাক রয়েছে। কৃষকরা অভিযোগ করেন, কৃষি বিভাগের লোকজনের ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ প্রসঙ্গে জানান, অভিযোগটি ঠিক নয়। ক্ষয়ক্ষতি কম দেখিয়ে লাভ নেই। তিনি জানান, এবার বোরো ধানে ব্লাস্ট দেখা দিয়েছে এবং চিটাও পড়েছে। ব্রি-২৮ জাতের ধানেই এসব রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। এতে ক্ষতির পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়। কৃষি বিভাগের লোকেরা এ ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। রোদ উঠলে হেলে পড়া ধানের গাছ ঠিক হয়ে যাবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ 

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM