বারী সিদ্দিকীর দাফন বাউল বাড়িতে
নিউজ ডেস্ক | ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও বংশীবাদক এবং বিখ্যাত ‘শুয়া চান পাখি’র গায়ক বারী সিদ্দিকীর দাফন নিজ বাড়ি নেত্রকোনোর বাউল বাড়িতে করা হবে।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন প্রাঙ্গণে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বারী সিদ্দিকীর নিজ জেলা নেত্রকোনার সরকারি কলেজ মাঠে বাদ আছর নামাজে জানাজা শেষে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চল্লিশা বাজারের বাউল বাড়িতে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পীর ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী।
বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের নন্দিত সঙ্গীতশিল্পী ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি হৃদরোগ ছাড়াও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।
গত ১৭ নভেম্বর রাতে হার্ট অ্যাটাক করলে বারী সিদ্দিকীকে স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তার দুটি কিডনিও অকার্যকর ছিল। দুই বছর ধরে তার কিডনির ডায়ালাইসিস চলছিল।
বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয় তার। মাত্র ১২ বছর বয়সে নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারী সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন।
পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন বারী সিদ্দিকী।

