শ্রেণিকক্ষসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত পাউন প্রাথমিক বিদ্যালয়
এমপি তৌফিকের হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী
গোলাম রসূল | ৫:৩৫ অপরাহ্ন, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

পাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
গোলাম রসূল: একতলা একটি ভবনে মাত্র তিনটি কক্ষ। একটি কক্ষের একপাশে উন্মুক্তভাবে আলাদা করা হয়েছে শিক্ষকদের জন্য বসার স্থান। ফলে শ্রেণিকক্ষ আর শিক্ষকদের অফিস কক্ষ কোনটা আলাদা করার উপায় নেই। শ্রেণিকক্ষে পাতা কয়েকটি চেয়ার আর একটি আলমারি দেখলে বুঝা যায় এখানে মনে হয় শিক্ষকরা বসেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল চারজন শিক্ষক এই হ-য-ব-র-ল কক্ষে বসে নিজেদের কাজ সারছিলেন। পাশেই শিক্ষার্থীরা উচ্চস্বরে তাদের পড়া শিখছিল। চিত্রটি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলাধীন দেওঘর ইউনিয়নের পাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। একটি বিদ্যালয়ে কত ধরণের সমস্যা থাকতে পারে তা এই বিদ্যালয়ে না আসলে জানা যাবে না। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। এই বিশাল পরিমাণ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক থাকার কথা কমপক্ষে ৫ জন। বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৪ জন শিক্ষক। চলতি দায়িত্বের একটি পদ খালি রয়েছে। শূন্য পদটিতে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, যাকে মূলত পড়ানোর চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় প্রশাসনিক কাজে। সে হিসেবে ৩০০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন ৩ জন শিক্ষক। গড়ে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য আছেন এক জন শিক্ষক। ফলে কম শিক্ষক দিয়ে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাতে আশানুরুপ রেজাল্ট করতে পারছে না এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে পূর্বের একতলা টিনসেড ভবনটি ভেঙ্গে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে বর্তমান একতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। পূর্বের টিনসেড ভবনে কক্ষ ছিল চারটি। থাকার কথা কমপক্ষে ৫টি শ্রেণিকক্ষ। তারপরেও তখন অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে পাঠদান করা যেত। কিন্তু বর্তমান ভবনে মাত্র তিনটি কক্ষ থাকায় শ্রেণিকক্ষের চরম সংকটে ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পড়াতে হচ্ছে একটি কক্ষে। পঞ্চম শ্রেণিকে পড়াতে হচ্ছে অফিস কক্ষের সাথে গাদাগাদি করে। ফলে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে বিদ্যালয়টিতে। যেটি মোটেই পড়াশোনা বান্ধব নয়। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু বিষয় হল বিদ্যালয়টিতে শৌচাগার বা টয়লেটের কোন ব্যবস্থা নেই। বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা টয়লেটের প্রয়োজনীয় কাজ সাড়তে আশ-পাশের বাড়িগুলোতে যান। যেটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিবেশি সকলের জন্যই খুবই বিব্রতকর। এমনকি পানি পানের জন্যও তাদেরকে একই ব্যবস্থা নিতে হয় একমাত্র নলকূপটি বেশিরভাগ সময় নষ্ট থাকার কারণে। মানসিকভাবে যার সামগ্রিক প্রভাব পড়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর। সঠিক পরিবেশের অভাবে শিক্ষকরা পারছেন না সঠিকভাবে পড়াতে আর শিক্ষার্থীরা করতে পারছে না সঠিকভাবে অধ্যয়ন। আর আশানুরুপ ফলাফল না হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যালয়টি রয়েছে সরকার নির্ধারিত বি-গ্রেডে। যার মানে হল প্রত্যাশা অনুযায়ী ভাল ফলাফল হচ্ছে না বিদ্যালয়টিতে। তবে শিক্ষক আর শ্রেণিকক্ষের অভাব ঘুচলে বিদ্যালয়টিকে এ-গ্রেডে নিয়ে যাবার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান শিক্ষক মাসুদুল ইসলাম। তিনি জানান, বর্তমান ভবনটিকে দ্বিতল করার জন্য একটি আবেদন ইতিমধ্যে করা হয়েছে। তবে এখনও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগেই বিদ্যালয়টিকে দ্বিতল করার ঘোষণা দেয়ার জন্য স্থানীয় সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের নিকট আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এদেরই একজন মনোয়ার হোসেন পুলক। তিনি বলেন, “আমাদের এমপি মহোদয় গোটা হাওর এলাকায় যেভাবে উন্নয়ন করছেন আমি বিশ্বাস করি বিষয়টি উনার নজরে এলে উনি তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। এলাকাবাসীর সাথে এটা আমারও জোরালো দাবি।” থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক খান এ বিষয়ে ভাটির রানিকে বলেন, “পাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে দ্বিতল করার জন্য এক থেকে দেড় মাস আগে আমরা একটি আবেদন পেয়েছি। তবে এই মুহুর্তে এ বিষয়ে কিছু করা যাচ্ছে না। খুব শীগ্রই আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানাব।” অষ্টগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস বলেন, “প্রধান শিক্ষক মাসুদুল ইসলাম একটি আবেদন আমার কাছে করেছেন। আমি ইতিমধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে প্রাধান্য দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেছি। আশা করি খুব শীগ্রই বিদ্যালয়টি দ্বিতল হবে।” উল্লেখ্য, পাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৮ সালে।

