বুধবার, ৬ মে ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ বাংলাদেশ সৈয়দ আশরাফের বিদায়ে স্বাধীনতার পর মন্ত্রীত্বহীন কিশোরগঞ্জ

সৈয়দ আশরাফের বিদায়ে স্বাধীনতার পর মন্ত্রীত্বহীন কিশোরগঞ্জ

খন্দকার আবু সুফিয়ান, অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ | ১:২০ অপরাহ্ন, ৭ জানুয়ারী, ২০১৯

1546845621.jpg

খন্দকার আবু সুফিয়ান: গতকাল ছিল কিশোরগঞ্জবাসীর জন্য এক অপ্রত্যাশিত শোকের মিছিল। যেখানে আওয়ামী লীগ বিএনপি ছাড়িয়ে দলমত নির্বিশেষে কিশোরগঞ্জবাসী তাদের প্রিয় সন্তানের মরদেহ কফিনে মোড়ানো সৈয়দ আশরাফকে বিদায় জানাতে অশ্রুশিক্ত নয়নে অপেক্ষায় ছিলেন নরসূন্দা নদ সংলগ্ন ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের দিকে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জানাযায় গতকাল লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল। কিশোরগঞ্জের ইতিহাসে সবচাইতে বড় জানাযা গতকাল (৬ জানুয়ারী) অনুষ্ঠিত হয়। বাকরুদ্ধ হৃদয়ে কিশোরগঞ্জ বাসী সাদামাটা, সজ্জন নির্লোভ নিরহংকারী স্পষ্টভাষী দূরদর্শী প্রচারভিমূখ নেতা সৈয়দ আশরাফকে চির বিদায় জানানোর পর বিকেলে নতুন মন্ত্রী পরিষদ ঘোষনায় কিশোরগঞ্জের কোন ব্যক্তি মন্ত্রী পরিষদে স্থান না পাওয়ায় কিশোরগঞ্জবাসীর বাকরুদ্ধ হৃদয়ে দু:সপ্নের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ মানুষের মুখে একই কথা সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুর দিনই কিশোরগঞ্জবাসী স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর মন্ত্রীত্ব শুন্য হল।

কিশোরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতির আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম সাড়ির নেতা, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক হাজী ইসরাইল মিয়ার ফেসবুক পাতায় দেখা গেল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত গতকাল সৈয়দ আশরাফের জানাযায় অংশগ্রহণ করে একটি ছবি পোষ্ট করেছেন, এবং শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত সৈয়দ আশরাফের জানাযার নামাযের একটি ছবি ফেসবুক পাতায় পোষ্ট করে লিখেছেন 'কিশোরগঞ্জের সরল প্রাণ মানুষের কাছে দলমত নির্বিশেষে ভালো এবং সৎ মানুষের সম্মান এবং আবেদন একটু বেশী। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জানাযায় তা আবারো প্রমাণ হলো। স্যালুট কিশোরগঞ্জ বাসী, আমরা কিশোরগঞ্জকে ভালবাসি'।

সৈয়দ আশরাফকে শুধু আওয়ামী লীগ নয় বিএনপিসহ সকল দলের মতের মানুষ একজন সৎ মানুষ হিসেবে ভালবাসতেন। ব্যক্তি জীবনে সৈয়দ আশরাফ ভদ্র মার্জিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তার দ্বারা কোন দল মত ও মানুষের ক্ষতি হয়নি তাই সকল রাজনৈতিক দল ও কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ তাকে ভালবাসতেন।

গতকাল কিশোরগঞ্জ ছিল নিভৃত শহর, মানুষজন তাদের প্রিয় নেতাকে একনজড় দেখার চেষ্টা করে সম্ভব না হলেও জানাযায় সকাল ১০ ঘটিকা থেকে উপস্থিত হতে শুরু করে শোলাকিয়া ঈদগাহে।

সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় হেলিকপ্টার যোগে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ আসার কথা থাকলেও দুপুর ১২.৪৮ মিনিটে কিশোরগঞ্জের আকাশে সৈয়দ আশরাফকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারটির দেখা মিলে। গুরুদয়াল সরকারী কলেজ মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণের পর মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন বিসিবির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ আফজাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সরওয়ার মুর্শেদ, পুলিশ সুপার মাসরুকুর রহমান সহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

কিন্তু তিনটি চক্কর দিয়ে কপ্টারটি গুরুদয়াল কলেজ মাঠে অবতরণ না করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম নতুন স্টেডিয়ামে অবতরণ করে।

মরদেহের সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন পুত্র মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, সৈয়দ আশরাফের ছোট ভাই মেজর শাফায়েতুল ইসলাম।

কিশোরগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে বঙ্গবন্ধু কন্যা হীরার টুকরা সম্ভোধন করেছিলেন কিন্তু নতুন মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জের কোন মন্ত্রী না থাকায় আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সৈয়দ আশরাফের শোকের মধ্যে আরেকটি কষ্টের ছায়া নেমে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্ত্রীত্ব না পাওয়ায় কিশোরগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ হতাশার কথা উল্লেখ করে বলেছেন সৈয়দ আশরাফের বিদায়ের দিনে নবঘোষিত মন্ত্রী পরিষদে কিশোরগঞ্জের কোন মন্ত্রীত্ব না থাকাটা কিশোরগঞ্জবাসীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হিসেবে বর্ণনা করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM