নতুন গ্যাসকূপ সন্ধানের খবরে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে ভোলাবাসী
১২:০৫ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ডের নতুন গ্যাসকূপ সন্ধানের খবরে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে ভোলাবাসী।
আবিষ্কৃত নতুন গ্যাসকূপ শাহবাজপুর ইস্ট-১ থেকে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধানের খবরটি জানানোর পর উচ্ছাস প্রকাশ করে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এতে করে গ্যাসসমৃদ্ধ এই জেলায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত সূচিত হবে বলে মনে করছেন তারা।
গত ৬ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগি ইউনিয়নে এই অনুসন্ধান গ্যাসকূপ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। আগের ৪টি কূপ নিয়ে বর্তমানে এখানে এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়া আরো একটি অনুসন্ধান কূপ খনন করার কথা রয়েছে।
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল মমিন টুলু মঙ্গলবার সকালে জানান, গ্যাস হচ্ছে প্রাকৃতিক শক্তি। যে দেশে গ্যাস থাকে সে দেশ সবার আগে উন্নত হয়। এই গ্যাস দিয়ে জেলায় শিল্প-কলকারখানা হবে। এতে করে ব্যাপক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হবে। ইতোমধ্যে দেশের বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই নতুন এই গ্যাসকূপের সন্ধানের খবরে আমরা আনন্দিত।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাং সেলিমউদ্দিন জানান, নতুন গ্যাস কূপ ভোলার উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে। আগামী দিনে পায়রা বন্দর নির্মাণ সম্পন্ন হলে ও ভোলা-বরিশাল ব্রীজ নির্মিত হলে এখানে গ্যাসভিত্তিক অনেক শিল্প গড়ে উঠবে। এই শিল্পের সাথে সহায়ক অনেক সেবা পাওয়া যাবে। গ্যাস ভোলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
ডিসি আরো বলেন, এছাড়া জেলার উপজেলা সদরের আরো একটি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে। ইতোমধ্যে ভেদুরিয়া ইউনিয়নে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই এর খনন কাজ শুরু করা হবে বলে জেলা প্রশাসক জানান।
এ ব্যাপারে স্থানীয় (ভোলা-২) সংসদ সদস্য আলী আযম মুকুল জানান, নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান পাওয়ার খবর জানার পর আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই খবরে সমগ্র দেশের মানুষের সাথে জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় নতুন গ্যাস পাওয়ার খবরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। আর এই গ্যাসের জন্যই ভোলা সারা দেশের মধ্যে সম্ভাবনাময় একটি জেলায় রুপান্তরিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভোলায় প্রথম ১৯৯১ সালে গ্যাস কূপ খনন কাজ শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে প্রথম শাহবাজপুর কূপ খনন করে গ্যাস উত্তোলন নিশ্চিত করা হয়। পরে ২০০৯ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করে গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হয়। বর্তমানে ওই গ্যাস ক্ষেত্র’র ৪টি কূপ থেকে দৈনিক ৭০ মিলিয়ন গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে গত বছর সিসিমিক জরিপে ভোলায় বিপুল পরিমাণে গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে রির্পোট রয়েছে। শিল্প উদ্যোক্তরাও ভোলায় শিল্প কারখানা করার কথাও ভবাবছেন। সূত্র: বাসস

