বুধবার, ৬ মে ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ বাংলাদেশ ‘নারী নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক জাগরণ’

‘নারী নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক জাগরণ’

নিউজ ডেস্ক | ৯:১৭ অপরাহ্ন, ২৭ নভেম্বর, ২০১৭

1511795869.jpg

নারী নির্যাতন বন্ধে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জাগরণের ওপর জোর আহ্বান এসেছে একটি গোলটেবিল আলোচনা থেকে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর- ১০ ডিসেম্বর) ২০১৭ পালন উপলক্ষ্যে যৌন নিপীড়নবিরোধী নির্দলীয় ছাত্রজোট (এসসিএআরএসভি) সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।

‘নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যয়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তারুণ্যের কার্যকর অংশগ্রহণ’ এই আলোচনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মেসবাহ কামাল, গীতি আরা নাসরীন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন।

সভায় বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বর্তমান চিত্র, যৌন সহিংসতার কারণ, উত্তরণের উপায় ও করণীয় ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়।

অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, “আমাদের দেশে সর্বস্তরে নির্যাতনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর নির্যাতনের পরিসর আমরা নিজেরা তৈরি করে দিচ্ছি বলেই আমরা বিচার চাইতে পারিনা।

“বিচারহীনতাকে কোনো না কোনোভাবে বৈধ করে দিচ্ছি বলেই আমরা চুপ করে থাকি। রাষ্ট্র বা সমাজ কিভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা বা বৈষম্যকে ব্যবহার করছে তা আমাদের বুঝতে হবে। যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের একটি রায় আছে- প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী একটি কমিটি গঠন করা- সেটির বাস্তবায়ন করতে হবে।”

অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, “নিপীড়ন হচ্ছে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। নারীকে নির্যাতনের নানা রূপ রয়েছে যার সাথে রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণ জড়িত। বাংলাদেশে যৌন নিপীড়ন মহামারি আকার ধারণ করেছে কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। রাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ চেষ্টা প্রয়োগ করে অপরাধীকে রক্ষা করছে।”

সাংস্কৃতিকভাবে কিভাবে শিক্ষার্থীদের মননে পরিবর্তন আনা সম্ভব ব্যাপারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, রাজনৈতিক কারণের পাশাপাশি অন্য যে বিষয়গুলো যৌন নির্যাতনের চালক হিসেবে কাজ করে তা হলো মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নীতি-নৈতিকতার অভাব।

তরুণ সমাজের এই অবনতির জন্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সেজন্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘ঢেলে সাজানো’র পরামর্শ দেন, যেখানে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে।

ধর্ষণ কিভাবে আমাদের মনস্তত্ত্বে কাজ করছে তা বুঝতে না পারলে ধর্ষণকে নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন।

তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক আধিপত্যের কারণে ধর্ষকামী মনস্তত্ব গড়ে উঠছে। তাই পুঁজিবাদী সমাজের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সবধরনের সহায়তা দেবে।”

আলোচনায় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম চলচ্চিত্রকে একটি পণ্য হিসেবে মন্তব্য করে বলেন, “বিক্রেতা সর্বদা ক্রেতাকে খুশি করতে চাইবে। আর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ক্রেতা যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ তাই তাকে খুশি করতে চলচ্চিত্র হয়ে গেছে বাণিজ্যিক আর নারী হয়েছে পণ্য।”

তিনি বলেন, “সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হলেও পাড়ায়-মহল্লায় ক্লাবগুলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। সরকার ও বিচার বিভাগের সাথে কথা বলে জানতে হবে কেন ধর্ষকের বিচার হবেনা। অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচরণ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার।”

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM