বুধবার, ৬ মে ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ বাংলাদেশ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পাঁচ ধর্ষিতার লেখাপড়া বন্ধ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে পাঁচ ধর্ষিতার লেখাপড়া বন্ধ

নিউজ ডেস্ক | ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

1511581458.jpg

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধর্ষণের শিকার পাঁচ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। 

গত কয়েক মাসে উপজেলার সিলিমপুর, বগারবাইদ, বড়চওনা, দেওবাড়ী, রতনপুর ও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটে। উপযুক্ত বিচার না পাওয়া ও সামাজিক হীনমন্যতা থেকে পাঁচ শিক্ষার্থী লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন।

সিলিমপুর বগারবাইদবাজার এলাকার জেএসসি পরীক্ষার্থীকে (কয়েকদিন আগে শেষ হওয়া) ধর্ষণ করে একই গ্রামের মৃত কুমুর হাজীর ছেলে নাছির উদ্দিন (৪০)। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গর্ভপাত হওয়ায় ধর্ষককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসা করেন স্থানীয় মাতবররা। আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় ধর্ষিতার পরিবারকে। ফলে ওই শিক্ষার্থী এ বছর জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

ওই শিক্ষার্থীর স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, মা পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ওই শিক্ষার্থী।

উপজেলা বড়চওনা এলাকায় নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে আবুল হাশেম লিটন (৪২) নামে স্থানীয় এক যুবক ধর্ষণ করে। ছাত্রীটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সখীপুর থানায় মামলা হলে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। ওই ছাত্রীও লজ্জায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

দেওবাড়ী এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শামীম আহমেদ শমেশ (৪০) নামে তার এক আত্মীয় ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে শাহীন খান (২১) নামের এক যুবক। থানায় মামলা হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুুলিশ। ঘটনার পর থেকে ওই কলেজ ছাত্রীও লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

এরও আগে উপজেলার রতনপুর এলাকায় বাদল মিয়া (৪২) নামে এক বখাটে সাত মাস আটকে রেখে তার ভাতিজি কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। মেয়েটির সামনে এইচএসসি পরীক্ষা থাকলেও তার পরীক্ষা দেওয়া হবে না বলে পরিবার জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানান, ধর্ষকদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা উচিত।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকছুদুল আলম জানান, ৫ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আমাদের সময়

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM