গ্রামের মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি
নিউজ ডেস্ক | ১২:৩৪ অপরাহ্ন, ৮ নভেম্বর, ২০১৭

গ্রামের মানুষের আয়ের পরিমাণ কমে গেছে। বেড়ে গেছে ব্যয়। আয় ও ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে মানুষ এখন জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে আপস করছে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণ করছেন। আবার কেউ কেউ আগের সঞ্চয় ভেঙে ব্যয় মেটাচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সম্প্রতি প্রকাশিত ‘খানা আয় ও ব্যয়ের জরিপ-২০১৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৬ সালে গ্রামে একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ১৩ হাজার ৩৫৩ টাকা। এর বিপরীতে মাসিক ব্যয় ছিল ১৪ হাজার ১৫৬ টাকা। অর্থাৎ প্রতিমাসে আয়ের তুলনায় ৮০৩ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। তবে ২০১০ সালে প্রতিমাসে গড়ে আয়ের তুলনায় ব্যয় ৩৬ টাকা কম হতো।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে একটি পরিবার ব্যয় মিটিয়ে ৭৭৭ টাকা সঞ্চয় করতে পারত। ২০০০ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫৫৯ টাকা। ২০০১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরের ব্যবধানে গ্রামে প্রতিটি পরিবারের মাসিক গড় আয় বেড়েছে ৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। কিন্তু এই সময়ে গড় ব্যয় বাড়ে ৯ হাজার ৮৯৯ টাকা। আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়ায় আর্থিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রামে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে খাদ্য খাতে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭.৮৭ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামে হয়েছে ৭.৯৭ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে এই হার প্রায় ৩ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের চেয়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেশি। শহরের চেয়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এটি শহরে হতে পারে। বিষয়টি দেখা উচিত।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘তফসিলি ব্যাংকের পরিসংখ্যান’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রামে সঞ্চয়ের হার কমে গেছে। ব্যাংকগুলোর ঋণ না বাড়লেও এনজিও ঋণ বেড়েছে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্রামের মানুষ এখন আগের সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। এ ছাড়া গ্রামে লাভজনক সঞ্চয় করার সুযোগও সংকোচিত হয়েছে। গ্রামে বেশি মুনাফার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। ফলে ব্যাংকে তাদের কম সুদে সঞ্চয় করতে হয়।
বিবিএসের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জীবিকার তাগিদে গ্রামের মানুষ শহরমুখী হচ্ছেন। এ ছাড়া অধিক ব্যয়ের ভারে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে গেছে। গ্রামে সাধারণত পণ্যপ্রাপ্তি সহজলভ্য না হওয়া, শহরকেন্দ্রিক পণ্য বিপণন ব্যবস্থা বেশি, রেমিট্যান্সের টাকা ব্যয় ইত্যাদির কারণে গ্রামে টাকার প্রবাহ বেড়েছে। গত ১৫ বছরে গ্রামে পরিবারপ্রতি গড় ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩২ গুণ।
এদিকে ১২১ দেশের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘নাম্বিও’ প্রকাশিত জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৬তম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকার চেয়ে বাংলাদেশের জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০১তম এবং ২০১৫ সালে ছিল ১০৯তম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, গ্রামে কোনো পণ্য উৎপাদন হলে তা অধিক লাভের আশায় শহরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে গ্রামের আয় বৃদ্ধি পেলেও ওই পণ্যে স্বল্পতা দেখা দিলে তা বেশি দাম দিয়েই কিনতে হয় গ্রামের মানুষকে। এ ছাড়া বিভিন্ন উৎপাদনমুখী পণ্য গ্রামে সরবরাহ করতে খরচ বেশি পড়ে। ফলে গ্রামের পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পায়।
তিনি আরও বলেন, গ্রামে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেশি থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনমূলক কার্যক্রমের সময় নগদ টাকার প্রবাহ থাকে। চাকরিজীবীরাও গ্রামে গিয়েই পরিবারের সঙ্গে তাদের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে। এ কারণে গ্রামে ব্যয় বেশি করার মনোভাব থাকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রামে টাকার প্রবাহ বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ পড়ছে। যে কারণে গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যমূল্যসহ বিভিন্ন ধরনের সেবার খরচও গ্রামে বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ ও চিকিৎসা খরচ গ্রামে বেশি বেড়েছে।
’স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় ৭-৮ শতাংশ হারে মানুষের আগমন ঘটছে। ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০-১২ লাখ মানুষ ঢাকা অভিমুখী হচ্ছেন। বসবাসের যতই অযোগ্য হোক ঢাকায় আসা মানুষ ভালোভাবেই জানেন উন্নয়ন বৈষম্যের কারণে ঢাকায় এমন কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছেÑ যা গ্রাম, জেলা শহরে এমনকি বিভাগীয় শহরেও পাওয়া যায় না। গ্রামকে বঞ্চনার মধ্যে রেখে শহরের উন্নয়ন হচ্ছে। ফলে গ্রামের মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে হবে। তা হলে শহরমুখী মানুষের ঢল কিছুটা কমবে। তখন গ্রাম ও শহরের বৈষম্য কমবে।
গ্রামের মানুষের আয়ের পরিমাণ কমে গেছে। বেড়ে গেছে ব্যয়। আয় ও ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে মানুষ এখন জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে আপস করছে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণ করছেন। আবার কেউ কেউ আগের সঞ্চয় ভেঙে ব্যয় মেটাচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সম্প্রতি প্রকাশিত ‘খানা আয় ও ব্যয়ের জরিপ-২০১৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৬ সালে গ্রামে একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ১৩ হাজার ৩৫৩ টাকা। এর বিপরীতে মাসিক ব্যয় ছিল ১৪ হাজার ১৫৬ টাকা। অর্থাৎ প্রতিমাসে আয়ের তুলনায় ৮০৩ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। তবে ২০১০ সালে প্রতিমাসে গড়ে আয়ের তুলনায় ব্যয় ৩৬ টাকা কম হতো।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে একটি পরিবার ব্যয় মিটিয়ে ৭৭৭ টাকা সঞ্চয় করতে পারত। ২০০০ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫৫৯ টাকা। ২০০১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরের ব্যবধানে গ্রামে প্রতিটি পরিবারের মাসিক গড় আয় বেড়েছে ৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। কিন্তু এই সময়ে গড় ব্যয় বাড়ে ৯ হাজার ৮৯৯ টাকা। আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়ায় আর্থিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রামে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে খাদ্য খাতে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭.৮৭ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামে হয়েছে ৭.৯৭ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে এই হার প্রায় ৩ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের চেয়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেশি। শহরের চেয়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এটি শহরে হতে পারে। বিষয়টি দেখা উচিত।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘তফসিলি ব্যাংকের পরিসংখ্যান’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রামে সঞ্চয়ের হার কমে গেছে। ব্যাংকগুলোর ঋণ না বাড়লেও এনজিও ঋণ বেড়েছে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্রামের মানুষ এখন আগের সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। এ ছাড়া গ্রামে লাভজনক সঞ্চয় করার সুযোগও সংকোচিত হয়েছে। গ্রামে বেশি মুনাফার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। ফলে ব্যাংকে তাদের কম সুদে সঞ্চয় করতে হয়।
বিবিএসের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জীবিকার তাগিদে গ্রামের মানুষ শহরমুখী হচ্ছেন। এ ছাড়া অধিক ব্যয়ের ভারে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে গেছে। গ্রামে সাধারণত পণ্যপ্রাপ্তি সহজলভ্য না হওয়া, শহরকেন্দ্রিক পণ্য বিপণন ব্যবস্থা বেশি, রেমিট্যান্সের টাকা ব্যয় ইত্যাদির কারণে গ্রামে টাকার প্রবাহ বেড়েছে। গত ১৫ বছরে গ্রামে পরিবারপ্রতি গড় ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩২ গুণ।
এদিকে ১২১ দেশের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘নাম্বিও’ প্রকাশিত জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৬তম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকার চেয়ে বাংলাদেশের জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০১তম এবং ২০১৫ সালে ছিল ১০৯তম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, গ্রামে কোনো পণ্য উৎপাদন হলে তা অধিক লাভের আশায় শহরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে গ্রামের আয় বৃদ্ধি পেলেও ওই পণ্যে স্বল্পতা দেখা দিলে তা বেশি দাম দিয়েই কিনতে হয় গ্রামের মানুষকে। এ ছাড়া বিভিন্ন উৎপাদনমুখী পণ্য গ্রামে সরবরাহ করতে খরচ বেশি পড়ে। ফলে গ্রামের পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পায়।
তিনি আরও বলেন, গ্রামে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেশি থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনমূলক কার্যক্রমের সময় নগদ টাকার প্রবাহ থাকে। চাকরিজীবীরাও গ্রামে গিয়েই পরিবারের সঙ্গে তাদের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে। এ কারণে গ্রামে ব্যয় বেশি করার মনোভাব থাকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রামে টাকার প্রবাহ বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ পড়ছে। যে কারণে গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যমূল্যসহ বিভিন্ন ধরনের সেবার খরচও গ্রামে বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ ও চিকিৎসা খরচ গ্রামে বেশি বেড়েছে।
’স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় ৭-৮ শতাংশ হারে মানুষের আগমন ঘটছে। ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০-১২ লাখ মানুষ ঢাকা অভিমুখী হচ্ছেন। বসবাসের যতই অযোগ্য হোক ঢাকায় আসা মানুষ ভালোভাবেই জানেন উন্নয়ন বৈষম্যের কারণে ঢাকায় এমন কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছেÑ যা গ্রাম, জেলা শহরে এমনকি বিভাগীয় শহরেও পাওয়া যায় না। গ্রামকে বঞ্চনার মধ্যে রেখে শহরের উন্নয়ন হচ্ছে। ফলে গ্রামের মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে হবে। তা হলে শহরমুখী মানুষের ঢল কিছুটা কমবে। তখন গ্রাম ও শহরের বৈষম্য কমবে।
সূত্র: আমাদের সময়

