রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ বাংলাদেশ তামাকজনিত মৃত্যুর হার কমাতে প্রয়োজন তামাকে উচ্চ কর

তামাকজনিত মৃত্যুর হার কমাতে প্রয়োজন তামাকে উচ্চ কর

নিউজ ডেস্ক | ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

1573303623.jpg

২০১৮ সালে দেশে তামাকজনিত কারণে এক লাখ ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ সংখ্যা এক লাখ ৬০ হাজারে দাড়াবে বলে আমরা ধারণা করছি। সরকার এ মৃত্যুর হার কমিয়ে নিয়ে আসতে তামাকের ওপর উচ্চ কর আরোপ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর ফোকাল পারসন ড. রুমানা হক।

শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর কনফারেন্স হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের জন্য আয়োজিত এক কর্মশালা তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর আয়োজনে ‘ইকোনোমিক্স অব ট্যোবাকো অ্যান্ড ট্যোবাকো ট্যাক্সেশন : পাবলিক হেলথ পাসপেকটিভ’ শিরোনামে তামাক কর বিষয়ক বিশেষ এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে তামাক মুক্ত করণের যে লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছেন সেটার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। একইসঙ্গে তামাকের কর বৃদ্ধি করাসহ জর্দা, গুলের ওপরও কর বাড়াতে হবে। তা নাহলে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো না। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে তামাকজাত দ্রব্যের দাম চলে যায়। একইসঙ্গে তামাকসহ বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানিগুলো যাতে বেশি মুনাফা লাভ করতে না পারে। এজন্য আমরা সিগারেটে চার স্তরে কর আরোপ পদ্ধতি থেকে সরে এসে দুই স্তরে করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকের কারণে যে ক্ষতি হয় তার বিপরীতে এ খাত থেকে আসা রাজস্বের থেকে অনেক বেশি। দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও রাজস্ব আসে মাত্র ২০ হাজার কোটি টাকা। ফলে অর্থের পাশাপাশি দেশের মানবসম্পদের অপরিসীম ক্ষতি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা দ্য ইউনিয়নের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে। আর এ অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ তামাকের ব্যবহার। দেশে এমন কোনো মাদকসেবী নেই যারা সিগারেট খায় না। ফলে তামাকের কারণে মৃত্যুর হার আমাদের কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে। কারণ সরকারের অসংক্রামক রোগের পিছনে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে ৯৫ শতাংশ শিশু পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হচ্ছে। ফলে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এবং যুবকদের রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রন ভীষণ জরুরি। অন্যদিকে তামাক নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ই-সিগারেট আরেক মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এটা দেশের জন্য বিশাল হুমকি। ই-সিগারেট নিয়ে নির্দিষ্ট আইন না থাকায় এটা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। একই সঙ্গে অবৈধ পথে দেশে ই-সিগারেটের চালান আসা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কৃষক ধান, আলুসহ অনেক ফসলের দাম পাচ্ছে না কিন্তু এটা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। অথচ তামাক নিয়ে অনেকের ভীষণ চিন্তা। তামক যদি লাভজনক ফসলই হতো তাহলে রংপুর এলাকায় কোনো মানুষের অভাব থাকতো না। ওই এলাকাকে মঙ্গা এলাকা হিসেবে অভিহিত করা হতো না। অনেকে এটা নিয়ে কারো কোনোকমকের উপর উচ্চ হারে কর আরোপের কোনো বিকল্প নেই।

কর্মশালায় তামাক কর বিষয়ে আলোচনার পর অংশগ্রহণ করা সংবাদকর্মীরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। এসময় বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌছাতে তামাকে কর বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে তারা ঐক্যমত পোষণ করেন।  

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM