রাজস্ব ফাঁকি দেয়া ধোঁয়াবিহীন তামাক কোম্পানীগুলোর জবাবদিহিতা জরুরী
নিউজ ডেস্ক | ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৯
নিউজ ডেস্ক: তামাক নিয়ন্ত্রণে কর বৃদ্ধি অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তামাকের বর্তমান জটিল ও স্তরবিশিষ্ট কর কাঠামোর পরবর্তে একটি সহজ ও শক্তিশালী তামাক শুল্ক-নীতি প্রণয়নের কথা বলেছেন। যা দেশে তামাকের ব্যবহার হ্রাস করার পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সর্বোপরি রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ও ছোট ছোট অবৈধ কোম্পানি ও ব্যান্ডের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। রাজস্ব ফাঁকি দেয়া ধোঁয়াবিহীন তামাক কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিবন্ধনহীন ধোঁয়াবিহীন তামাক কোম্পানিগুলোকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকাভুক্ত করা জরুরী। আজ ২৯ জানুয়ারী ২০১৯ সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এইড ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, ব্যুরো অব ইকোনোমিক রিসার্চ- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল” (টিসিআরসি) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাষ্ট যৌথ উদ্যোগে “রাজস্ব ফাঁকি দেয়া ধোঁয়াবিহীন তামাক কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) উপদেষ্টা আবু নাসের খান এর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর কান্ট্রি এডভাইজার জনাব শফিকুল ইসলাম, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোজহেরুল হক, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট’র পরিচালক গাউস পিয়ারী, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যুরো অফ ইকোনোমিক রিসার্চ এর প্রোজেক্ট ম্যানেজার ডালিয়া দাস। ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’র কর্মসূচী ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন টোব্যাকো কন্ট্রল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর সহকারী অধ্যাপক এবং সদস্য সচিব মো. বজলুর রহমান। শফিকুল ইসলাম বলেন, অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। গবেষণায় অনুসারে, সব স্তরের মানুষ জর্দ্দা ব্যবহার করলেও নি¤œ আয়ের শ্রমিক, দিনমজুর শ্রেণীর পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে গুলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ক্ষতির ঝুঁকিও তাদের মধ্যে বেশি। মোজহারুল হক বলেন, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের কারনে (হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়বেটিস) মৃত্যু ৬৭% এ এসে দাড়িয়েছে১। এসকল রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ মেয়াদী। উল্লেখ্য স্বাস্থ্য খাতে মোট ব্যায়ের ৬৭% জনগনের নিজ পকেট থেকে ব্যয় করতে হয়। আবু নাসের খান বলেন, ধোঁয়াবিহীন তামাকপন্য উৎপাদনকারী কোম্পানীগুলো রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে। রাজস্বর আওতায় আনার জন্য অধিকাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাকপন্য উৎপাদনকারী কোম্পানীর সঠিক নিবন্ধন খুজেঁ পাওয়া যায়না। ফলে একদিকে রাষ্ট্র রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে কোন জবাবদিহিতার আওতায় তাদের আনা সম্ভব হচ্ছে না। মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, তামাকের প্রকৃত মূল্য বাড়লে তামাক ব্যবহার কমেÑএটি বিভিন্ন দেশে প্রমাণিত। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুসারে নরওয়ে, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের অনেক দেশে তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধির ফলে এর ব্যবহার কমেছে। বাংলাদেশে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই, বিশেষ করে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর বৃদ্ধি সময়ের দাবি। হেলাল আহমেদ বলেন, অধিকাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাকপন্য উৎপাদনকারী কোম্পানীর যত্রতত্র খুপরির মত কারখানা তৈরির মাধ্যমে ও রাজস্ব ফাঁকির মাধম্যে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা। অনেক ক্ষেত্রে ছোট কোম্পানীর দোহাই দিয়ে তামাক কোম্পানীগুলো ধরা ছোয়াঁর বাইরে থেকে যায়। অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, বাংলাদেশে এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে কম মূল্যে চর্বণযোগ্য তামাক পাওয়া যায়। ২০০৩ সালের আগে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের উপর কোন ট্যাক্স আরোপ করা হতো না। বর্তমানে যে করনীতি চালু আছে তাও যথেষ্ট দূর্বল। গাউস পিয়ারী বলেন, তামাকের মতো স্বাস্থ্যহানীকর পণ্যের উপর কর আরোপ জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সর্বোপরি রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণে তামাকের কর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা একটি জরুরী বিষয়।

