ভাঙ্গছে বাঙ্গালপাড়া-চাতলপাড় রাস্তা, ভাঙ্গছে হাওরের মানুষের স্বপ্ন
মন্তোষ চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিবেদক | ১০:০৬ অপরাহ্ন, ২২ আগস্ট, ২০২০

মন্তোষ চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিবেদকঃ হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে এলজিইডির নির্মিত কয়েক কোটি টাকার বাঙ্গালপাড়া থেকে চাতলপাড় রাস্তাটি এখন মরনফাঁদ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় এ রাস্তাটি দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রথানী, নাজিরপুর, লাউড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তাটি যেকোনো সময় ভেঙ্গে গিয়ে অষ্টগ্রাম-ব্রাহ্মনবাড়িয়া সড়কটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এলজিইডি অফিস নির্বিকার বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে কাজ শুরু হওয়া অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া হয়ে -ব্রাহ্মনবাড়িয়ার চাতলপাড় পর্যন্ত সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তাটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৪ টি ব্রিজও। কিন্ত এ বছরে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় মারাত্মক ভাঙ্গনের কবলে পড়ে রাস্তাটি। এতে করে রাস্তার দুইপাশে কোথাও গর্ত, কোথাও রাস্তার সাইড ভেঙ্গে যাচ্ছে কোথাও আবার ব্রীজের দুইপাশে বড় বড় গর্ত হয়ে পড়ায় যাত্রীবাহী অটোবাইক নিয়ে দুঘর্টনার শিকার হতে হচ্ছে বলে একাধিক ব্যক্তিরা জানান। এদিকে জরুরী ভিত্তিতে ৯৫০ বস্তা জিউও বস্তা ভাঙ্গার জায়গার ফেলানোর কথা থাকলেও সময় মত না ফেলানোর কারণে উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো: কাজী ফারুক হোসেনকে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো: কাজী ফারুক হোসেন এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বাঙ্গালপাড়া-চাতলপাড় রাস্তায় জিউও বস্তা ফেলানোর কথা থাকলেও বিভিন্ন জায়গায় ফেলা হয়েছে। এলজিইডির এত ব্যয়বহুল রাস্তাটি যেকোনো সময় বিলিন হয়ে যেতে পারে বলে এলাকাবাসীরা জানান। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায় বাঙ্গালপাড়া-চাতলপাড় সড়কে বাঙ্গালপাড়ার শান্তিপুর গ্রামের কাছে অবস্থিত ব্রীজটির দুই সাইডেই ভেঙ্গে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়ে যেকোনো সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও রথানী গ্রামের সামনে ব্লক সরে গিয়ে হুমকির মুখে রাস্তাটি। নাজিরপুর গ্রামে সামনে মোড়ে সাইড ব্লক ভেঙ্গে গিয়ে রাস্তাটি ভাংঙ্গতে শুরু করেছে। নাজিরপুর গ্রামের মাসুক মিয়া বলেন, এই রাস্তাটি হাওরবাসির স্বপ্ন কিন্ত ভাঙ্গার কারণে যেন হাওরবাসির স্বপ্ন্ও ভেঙ্গে যাচ্ছে। একই গ্রামের মুসলিম মিয়া বলেন, অষ্টগ্রাম থেকে ব্রাহ্মনবাড়িয়া যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটির ভাঙ্গনে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। লাউড়া গ্রামের আলী নেওয়াজ বলেন, যেভাবে ভাঙ্গছে যদি আরো কয়েকদিন বৃষ্টি হয় তাহলে আর রাস্তা পাওয়া যাবে না। এই এলাকার রেনু মিয়া বলেন, এখন এই রাস্তাটি একমাত্র আল্লাহ টিকাতে পারেন। তিনি আরো জানান আগে রাস্তার কাজ দেখার জন্য অষ্টগ্রাম অফিস থেকে অফিসারেরা আসত এখন আর তাদের কাউকে দেখা যায় না এবং একটু মেঘ-বৃষ্টি হলে যেকোনো সময় রাস্তাটি ভেঙ্গে গিয়ে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তবে সারা রাস্তা জুড়ে ৫০ থেকে ৭০টি বস্তা ভাঙ্গা রাস্তায় ফালানো হয়েছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে এলজিইডির অফিসে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো: আমিনুল ইসলাম মৃধার সাথে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলতে রাজি হননি। তবে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আমিরুজ্জামান জানান, আমি রাস্তার বিষয়টি শুনে দ্রুত ৯৫০টি বস্তা ভাঙ্গা জায়গায় ফেলানোর জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু সময় মত না ফেলানোর কারণে উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো: কাজী ফারুক হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

