শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ অষ্টগ্রাম গোরস্থানের জন্য অলওয়েদার পাকা রাস্তা চান আনোয়ারপুরবাসী

গোরস্থানের জন্য অলওয়েদার পাকা রাস্তা চান আনোয়ারপুরবাসী

গোলাম রসূল | ১:৪৬ অপরাহ্ন, ১৭ আগস্ট, ২০২০

1597650400.jpg

গোলাম রসূল: আনোয়ারপুর গ্রাম। অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত একটি জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। পূর্ব-পশ্চিমমুখী এ গ্রামটিতে চলাচলের জন্য গ্রামের দুই পাশে দুইটি সড়ক রয়েছে। বর্ষাকালে এ দুইটি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে গ্রামের ভিতর দিয়ে যাতায়াত করতে হয় গ্রামবাসীকে। মানুষের বাড়ির ওঠান কিংবা চিপা গলি দিয়ে অনেক কষ্টে বছরের পর বছর ধরে একটি পাকা রাস্তার অভাবে অবর্ণনীয় কষ্ট করে আসছেন আনোয়ারপুরবাসী। বৃষ্টি হলে হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে কোনরকমে আসা-যাওয়া করেন এ গ্রামের হাজারো মানুষ। সে এক নিদারুন দুর্ভোগ। বর্ষাকালের এই দুর্ভোগের কথা ভুক্তভোগীদের কাছে দু:স্বপ্নের মত।

সরেজমিনে দেখা গেছে আনোয়ারপুর গ্রামের প্রতিটি বাড়ি ঘনবসতিপূর্ণ। গ্রামের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে ঘরবাড়িতে। গাদাগাদি করে গ্রামের ঘরগুলো তুলা হয়েছে। যেকারণে গ্রামের ভিতর দিয়ে চলাচলের কোন রাস্তা রাখার সুযোগ ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। 

গ্রামের মাঝখানে রয়েছে একটি জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা। প্রতিদিন গ্রামের পূর্ব-পশ্চিম পাশের মানুষজন অনেক কষ্ট করে হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে মসজিদে আসেন নামাজ আদায় করতে। যদি গ্রামের কেউ মারা যান তবে মৃতদেহের জানাজার জন্য নিয়ে আসা হয় সে মসজিদে। যেহেতু গ্রামের ভিতর দিয়ে মানুষ-ই কোনরকমে চলাচল করে, সে কারণে গ্রামের ভিতর দিয়ে খাটিয়া আনার কোন সুযোগই নেই। মৃতদেহ মসজিদে আনা হয় ছোট কোষা বা ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। 

আবার মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় আনোয়ারপুর গ্রামের গোরস্থানে যেটি স্থানীয়ভাবে যোগিন্দাকান্দি ভিটা হিসেবে পরিচিত। এ গোরস্থানে আনোয়ারপুর গ্রামের লাশ দাফনের পাশাপাশি আশপাশের গ্রাম যেমন রথানী, বাঙ্গালপাড়াসহ বর্ষাকালে নাসিরনগর উপজেলার বিভিন গ্রামের মানুষ লাশ নিয়ে আসেন দাফন করতে। 

এককথায় বলা যায় যোগিন্দাকান্দি ভিটা একটি ঐহিত্যবাহী গোরস্থান। বর্ষাকালে আনোয়ারপুরবাসী কোমর বা হাঁটু পানি ভেঙ্গে বা ছোট নৌকায় মসজিদে জানাজার পর লাশ দাফনের জন্য এই গোরস্থানে নিয়ে যান। যেটি খুবই কষ্টের, অমানবিক ও অত্যন্ত দু:খজনক।

আনোয়ারপুরবাসী মনে করেন এসব দুরবস্থা থেকে মুক্তির একটি উপায় হল গোরস্থানে যাওয়ার জন্য আনোয়ারপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে একটি অলওয়েদার পাকা রাস্তা নির্মাণ। শুধুমাত্র দক্ষিণ পাশ দিয়ে একটি অলওয়েদার পাকা রাস্তা নির্মিত হলে আনোয়ারপুরবাসীর দু:খ, কষ্ট ও দুর্দশা লাঘব হবে। 

তাদের মতে, প্রথমত সারাবছর চলাচলের জন্য গ্রামের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হবে। দ্বিতীয়ত, আনোয়ারপুর মসজিদে লাশ আনা ও দাফন করার জন্য গোরস্থানে নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে। পাশাপাশি রথানী, বাঙ্গালপাড়াসহ অন্যান্য গ্রামের মানুষও পায়ে হেটে বা গাড়িতে বহন করে গোরস্থানে লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যেতে পারবেন।

তাই আনোয়ারপুরবাসীর একটিই দাবি--গোরস্থানে যাওয়ার জন্য অতি দ্রুত আনোয়ারপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে একটি অলওয়েদার পাকা রাস্তা নির্মাণ করা।

এ বিষয়ে আনোয়ারপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান চৌধুরী আসাদ ভাটির রানিকে বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের দাবিকৃত এ রাস্তাটি নির্মাণের জন্য মাননীয় সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি। আশা করি তিনি আনোয়ারপুরবাসীর দুর্দশা লাঘবে অতি শীগ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

বাঙ্গালপাড়া গ্রামের তুষার সরকার জানান, এ রাস্তা ও গোরস্থানটি সমগ্র বাঙ্গালপাড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। গোরস্থানটি হাওরের সবচেয়ে উচুঁ জায়গায় অবস্থিত বলে বর্ষাকালে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ লাশ দাফন করতে নিয়ে আসেন। আনোয়ারপুর ও রথানী গ্রামের মাঝ দিয়ে অলওয়েদার পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হলে এই দুই গ্রামের সকল মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য গ্রামের মানুষও উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে আনোয়ারপুর ৪-নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বছির মিয়া বলেন, গ্রামের কেউ মারা গেলে মসজিদে লাশ আনা-নেওয়া করা বিরাট কষ্টের ব্যাপার। আবার সেখান থেকে গোরস্থানে দাফনের জন্য লাশ বহনের বড় নৌকা বা অন্য কোন ব্যবস্থাও নেই। যদি একটি অলওয়েদার পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয় তবে মসজিদের সাথে গোরস্থানের একটি সংযোগ স্থাপিত হবে। আর এতে আনোয়ারপুর গ্রামের মানুষের অনেক কষ্ট দূর হবে এবং লাশ জানাজা ও দাফনের একটি স্থায়ী বন্দোবস্ত হবে।

বাঙ্গালপাড়ার ডা. এম এ ফয়েজ জানান এ গোরস্থানটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশ্ববর্তী থানা নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নের অনেক মানুষকে বর্ষাকালে এখানে দাফন করা হয়। গোরস্থান থেকে আনোয়ারপুর গ্রামের দক্ষিণে ডিসি রোড পর্যন্ত পাকা সড়কটি নির্মিত হলে আনোয়ারপুর গ্রামের বিশাল উপকার হবে। 

আনোয়ারপুর ৪-নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাকিম মিয়া ভাটির রানিকে বলেন, “আমি এমপি সাহেবকে বলেছি গ্রামের দক্ষিণে রাস্তাটি নির্মাণ করার জন্য। এমপি সাহেব আমাদের সামনেই চেয়ারম্যান সাহেবকে রাস্তাটির ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। আশা করি মাননীয় এমপি সাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী খুব দ্রুতই এর কাজ করা হবে।”

জানতে চাইলে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক ভূইয়া ভাটির রানিকে বলেন, “গোরস্থানের এ রাস্তাটি হওয়া খুবই প্রয়োজন। আনোয়ারপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে এ রাস্তাটি গোরস্থান হয়ে সিরাজদিখান দিয়ে বের হয়ে যাবে। এর ফলে কৃষকদের ফসল পরিবহন, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও সর্বোপরি আনোয়ারপুরবাসীর ব্যাপক উপকার হবে। পাশাপাশি আনোয়ারপুর গ্রামের পশ্চিমে পাইন্নার মার খালের সাথে রথানীও এ সড়কে সংযুক্ত হবে। ফলে, রথানীবাসীও এ সড়কের সুবিধাভোগী হবে।”

তিনি আরো জানান, কিছুদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে নতুন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন জমা দেয়া হবে। মাত্র কয়েকদিন আগে বাঙ্গালপাড়া এসে সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ প্রদান করেছেন।

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM