ঘোষণার এক বছর: হাওরভাতা পাচ্ছেন না অষ্টগ্রামের সরকারি চাকরিজীবীরা
গোলাম রসূল | ৫:৩৭ অপরাহ্ন, ২৯ এপ্রিল, ২০২০

গোলাম রসূল: ঘোষণার এক বছর পার হতে চললেও এখনো হাওরভাতার দেখা পাচ্ছেন না কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে কর্মরত কয়েকশত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকবৃন্দ। ফলে অনেকের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। আবার অনেকেই বদলিজনিত কারণে হাওরভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা যায় সরকার দেশের ১৬ টি হাওর উপজেলায় কর্মরতদের প্রণোদনা দেয়ার জন্য হাওরভাতা প্রদান করার ঘোষণা দেয় যা ২০১৯ সালের ৫ মে থেকে কার্যকরী হওয়ার কথা। সে হিসেবে আর মাত্র ৫ দিন পরেই ঘোষণার এক বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকবৃন্দ তাদের বহুল প্রত্যাশিত হাওরভাতা এখনো পাচ্ছেন না। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেটি পাবেন সে আশাও করা যাচ্ছেনা। কারণ উপজেলার বিভিন্ন অফিস থেকে আলাদা আলাদা বাজেট দিলেও আজ পর্যন্ত কোন অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। অষ্টগ্রামে হাওরভাতা প্রাপ্তের সবচেয়ে বড় জনবল প্রাথমিক শিক্ষা খাতে। এর পরেই রয়েছে স্বাস্থ্য খাত। স্বাস্থ্য খাতের মধ্যে নার্সরা খুব শীগ্রই হাওর ভাতা পাবে। এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর থেকে সম্প্রতি অনুমোদন এসেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসসহ কয়েকটি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইতিমধ্যে হাওরভাতা পেতে শুরু করেছেন। উপজেলায় কর্মরত বড় দুটি গোষ্ঠীসহ আরো কয়েকটি অফিসে কর্মরতগণ এখনো হাওরভাতা পাচ্ছেন না। অষ্টগ্রাম উপজেলা হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আলী আকবর ভাটির রানিকে বলেন দীর্ঘ এক বছর হলেও হাওরভাতা না পাওয়ায় হেলথ এসিস্ট্যান্টগণ হতাশ। তিনি বলেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসকের অফিস যদি হাওরভাতা প্রদান শুরু করতে পারে তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কেন সেটি শুরু করছে না। এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. ইসহাক বাবু বলেন, “আমি আজকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এ বিষয়ে ফোন করেছিলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাইনি। কাল আবার ফোন করব।” অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস প্রধান মোখলেসুর রহমান জানান তিন মাস পূর্বে তিনি প্রায় তিন লাখ টাকার একটি বাজেট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাজেট শাখায় প্রেরণ করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানিয়েছেন হাওর ভাতার জন্য তিনি এক কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি বাজেট জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠিয়েছেন। এর আগেও বাজেট পাঠানো হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন হয়ত খুব শীগ্রই এ ভাতা প্রদান করা সম্ভব হবে। দেওঘর পূর্বহাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাইরুল আলম খান বলেন, “আমরা চাই সকল শিক্ষককে অতি দ্রুত হাওরভাতা প্রদান করা হোক। তাহলে শিক্ষকগণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে তাদের কাজে অধিকতর মনোনিবেশ করতে পারবেন।” অতি দ্রুত হাওরভাতা পাওয়ার জন্য স্থানীয় সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

